1. info@www.media71bd.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.media71bd.com : TV :
বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩৮ অপরাহ্ন

‘স্মার্ট কৃষি’ বাস্তবায়নে সরকারের একগুচ্ছ পরিকল্পনা, চালু হলো কৃষক কার্ড

মিডিয়া ডেস্ক
  • Update Time : বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬

কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষিপণ্যের বহুমুখীকরণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ‘স্মার্ট কৃষি’ কার্যক্রম বাস্তবায়নে একগুচ্ছ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এর অংশ হিসেবে গত ১৪ এপ্রিল ‘কৃষক কার্ড’ চালু করা হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা ১০ ধরনের সেবা পাবেন।

বুধবার (২২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রবিউল আউয়ালের লিখিত প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। খাদ্য নিরাপত্তা, দারিদ্র্য বিমোচন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে কৃষির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে জলবায়ু পরিবর্তন, জমির পরিমাণ হ্রাস, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে কৃষি নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এসব মোকাবিলায় আধুনিক ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।

তিনি জানান, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, স্বল্পমূল্যে কৃষিযন্ত্র, সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, কৃষি বীমা, ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রি, প্রশিক্ষণ, আবহাওয়া ও বাজার তথ্য এবং ফসলের রোগ-বালাই সংক্রান্ত পরামর্শসহ মোট ১০টি সেবা পাবেন। পর্যায়ক্রমে দেশের সব কৃষককে এ কার্ডের আওতায় আনা হবে।

কৃষি উন্নয়নে সরকারের প্রধান পরিকল্পনাগুলো হলো—

কৃষি উৎপাদন বাড়াতে উন্নত বীজ, সুষম সার ব্যবহার এবং আধুনিক সেচ ব্যবস্থা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ট্রাক্টর, হারভেস্টার, রিপারসহ কৃষিযন্ত্রে ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে।

পতিত জমি চাষের আওতায় আনতে ‘ক্রপ জোনিং’ পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। এতে এলাকার মাটি ও আবহাওয়ার উপযোগী ফসল নির্ধারণ করে উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে। খাল খনন ও পানি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পতিত জমি চাষের আওতায় আনার উদ্যোগও চলছে।

কৃষিপণ্যের বহুমুখীকরণে ধাননির্ভর কৃষির বাইরে ফল, সবজি, ডাল, তেলবীজ, মসলা ও ফুল চাষ সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

কৃষকদের জন্য ভর্তুকি ও প্রণোদনা কার্যক্রম কৃষক কার্ডের মাধ্যমে আরও স্বচ্ছ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে স্বল্প সুদে কৃষিঋণ ও ফসল বীমা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনেও বিশেষ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা খাতে ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার মধ্যে ৪০১ কোটি ৬০ লাখ টাকা ইতোমধ্যে ২৫ লাখের বেশি ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।

পোস্ট-হারভেস্ট ক্ষতি কমাতে আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ, মিনি কোল্ড স্টোরেজ ও সংরক্ষণ সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে। কৃষিপণ্য রপ্তানির জন্য রপ্তানি অঞ্চল ও ক্রয়কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

গবেষণা খাতে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ও পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে উচ্চ ফলনশীল ও জলবায়ু সহনশীল জাত উদ্ভাবনের কাজ চলছে।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ‘ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষি’ বাস্তবায়নে লবণাক্ততা, খরা ও বন্যা সহনশীল ফসল, পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, প্রিসিশন এগ্রিকালচার ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। মোবাইল অ্যাপ ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষকদের সঠিক তথ্য ও সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

More News Of This Category

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়

ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট
error: Content is protected !!