
নির্ধারিত সময়ের আগেই যুবকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে যশোর টিটিসি চত্বর। নানা রঙের খাম ও ফাইলে সযত্নে রাখা জীবনবৃত্তান্ত নিয়ে সকাল থেকেই ভিড় করেন চাকরিপ্রার্থীরা। প্রস্তুতি নিয়ে আসতে না পারা অনেকে আশপাশেই বসে হাতে-হাতেই সিভি তৈরি করে জমা দেন পছন্দের প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত বক্সে। রেজিস্ট্রারে নাম লেখানোর পর অপেক্ষা শুরু হয় কাক্সিক্ষত সেই সাক্ষাৎকার ডাকার। চাকরি মেলায় আগতদের কাছে এটি শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং তাদের স্বপ্নপূরণের অভিযাত্রা। দীর্ঘদিনের বেকারত্বে হতাশ বহু তরুণের কাছে মেলাটি নতুন আশার আলো হয়ে আসে।
যশোর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং মানবাধিকার সংস্থা রাইটস যশোরের যৌথ উদ্যোগে দিনব্যাপী এই চাকরি মেলার আয়োজন করা হয়। সহযোগিতায় ছিল উইনরক ইন্টারন্যাশনালের ‘আশ্বাস প্রকল্প’। বৃহস্পতিবার সকালে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র মাঠে আয়োজিত মেলার উদ্বোধন করেন যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) খান মাসুম বিল্লাহ। সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী গাজী ইকফাত মাহমুদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাইটস যশোরের নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক ও উইনরকের সিনিয়র ম্যানেজার জি. এফ. রব্বানী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন রাইটস যশোরের উপপরিচালক এসএম আজহারুল ইসলাম।
চাকরি মেলায় অংশ নেয় ২০টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। প্রতিটি স্টলে প্রয়োজনীয় পদ, যোগ্যতা ও বেতন সুবিধার তালিকা প্রদর্শন করা হয়। চাকরি প্রত্যাশীরা নিজের আগ্রহ অনুযায়ী স্টল ঘুরে দেখে জীবনবৃত্তান্ত জমা দেন।
গোপালগঞ্জ থেকে আসা রিমন খান আগে বেসরকারি একটি উন্নয়ন সংস্থায় চাকরি করতেন। বর্তমানে বেকার। চাকরি পাওয়ার অনিশ্চয়তা থাকলেও এমন আয়োজনে তিনি সন্তুষ্ট। তার মতে, নিয়োগকর্তা ও চাকরিপ্রার্থী উভয়ের জন্যই এই মেলা অত্যন্ত কার্যকর। যশোর শহরের সামিরা খাতুন আইটি ও কলসেন্টারে কাজের আগ্রহ নিয়ে সংশ্লিষ্ট স্টলে সিভি জমা দেন। তারও প্রত্যাশা—এমন আয়োজন নিয়মিত হওয়া প্রয়োজন।
মণিরামপুরের সুন্দলপুর গ্রামের জীবন হোসেন গাড়িচালকের সহযোগী পদে আবেদন জমা দিতেই সরাসরি নিয়োগ পান। উৎফুল্ল জীবন জানান, এই সুযোগ তার জীবনে নতুন অধ্যায় খুলে দিয়েছে। তার মতো সরাসরি নিয়োগ পেয়েছেন আরও ৪৩০ জন, যার মধ্যে ৬৩ জন মানবপাচারের শিকার হয়ে ফিরেছেন। এ ছাড়া এক হাজার ৩৭৫ জন এখনো চূড়ান্ত ডাকার অপেক্ষায়।
মেলায় অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানান, সাধারণত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েও উপযুক্ত কর্মী পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। মেলায় সরাসরি প্রার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে যোগ্যতা যাচাই করা সহজ হয়। উভয় পক্ষের চাহিদার ভিত্তিতে যাদের যথোপযুক্ত মনে হয়েছে তাদের বায়োডাটা সংগ্রহ করা হয়েছে।
রাইটস যশোরের নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক বলেন, মূলত মানবপাচারের সার্ভাইভারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়ার লক্ষ্যেই এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি এলাকার অন্য বেকার যুবকদের জন্যও এটি চাকরির সুযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৫
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি
Leave a Reply