
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে রাজবাড়ীতে দিনব্যাপী কারাতে প্রশিক্ষণ, বেল্ট পরীক্ষা, মোটিভেশনমূলক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে জেলার বিভিন্ন বয়সী প্রশিক্ষণার্থী ও কারাতে অনুরাগীরা অংশগ্রহণ করেন।
বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজবাড়ী জেলা স্টেডিয়ামে মার্শাল পাওয়ার শোটোকান কারাতে একাডেমীর উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাজ এশিয়ান কারাতে ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক ও রেফারি এবং মার্শাল আর্ট ফাউন্ডেশন (এমএএফ)-এর চেয়ারম্যান মো. আতিকুর রহমান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কোচ ও সাবেক খেলোয়াড় মো. সারোয়ার হোসেন, জাতীয় কারাতে কোচ ও রেফারি এবং বাংলাদেশ সিতোরিও কারাতে ফেডারেশনের প্রধান প্রশিক্ষক সিহান শেখ ওয়াহেদ আলি, রাজবাড়ী জেলার কারাতের পথিকৃৎ ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের সাবেক কারাতে কোচ ফজর আলি ফয়েজ, মার্শাল পাওয়ার শোটোকান কারাতে একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা প্রশিক্ষক ও সাধারণ সম্পাদক মো. এনামুল হাসান শাহীন এবং রাজবাড়ী ক্রীড়া সংস্থার সদস্য কাজী তানভীর মাহমুদ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, কারাতে জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপে উদ্ভূত একটি ঐতিহ্যবাহী মার্শাল আর্ট, যা মূলত খালি হাতে আত্মরক্ষার একটি কার্যকর পদ্ধতি। ঘুষি, লাথি, কনুই ও হাঁটুর ব্যবহারের মাধ্যমে কারাতে শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, মানসিক দৃঢ়তা, আত্মবিশ্বাস ও শৃঙ্খলা গড়ে তোলে। কাতা, কুমিতে ও ধ্যানের অনুশীলনের মাধ্যমে একজন প্রশিক্ষণার্থী আত্মনিয়ন্ত্রণ ও আত্মরক্ষার দক্ষতা অর্জন করতে পারে।
প্রশিক্ষকরা আরও বলেন, দক্ষ প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে নিয়মিত অনুশীলন কারাতে শেখার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেকোনো বয়সের মানুষ নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সুস্থ জীবনযাপন ও আত্মরক্ষার সক্ষমতা অর্জন করতে পারে।
প্রশিক্ষণার্থীরা জানান, কারাতে প্রশিক্ষণের ফলে তারা শারীরিক সক্ষমতার পাশাপাশি মানসিক শক্তি ও আত্মবিশ্বাস অর্জন করছেন। বেসিক কৌশল, কাতা ও আত্মরক্ষার প্রশিক্ষণ তাদের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে বলে তারা মত প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, ১৯৮৫ সালে রাজবাড়ীতে ওস্তাদ ফজর আলি ফয়েজের হাত ধরে কারাতে প্রশিক্ষণের সূচনা হয়। বর্তমানে ওস্তাদ মো. এনামুল হাসান শাহীনের তত্ত্বাবধানে প্রায় ১৩০ জন ছেলে ও মেয়ে নিয়মিত কারাতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছেন।
ইতোমধ্যে রাজবাড়ীর প্রশিক্ষণার্থীরা দেশ-বিদেশে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জসহ নানা পদক অর্জন করে জেলার সুনাম বৃদ্ধি করেছেন।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৫
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি
Leave a Reply