চাঁদপুরের শাহরাস্তি থানা পুলিশের অভিযানে একটি ৯ এমএম পিস্তল, একটি ৭.৬২ চায়না পিস্তল ও ৩০ রাউন্ড গুলিসহ মা লাভলী বেগম (৪০) ও তার ছেলে ফয়সাল হোসেন শাকিল (২১)–কে গ্রেফতার করা হয়েছে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চাঁদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) রবিউল হাসান।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শাহরাস্তি থানা পুলিশ জানতে পারে, শাহরাস্তি পৌরসভার পশ্চিম উপলতাধীন জমির উদ্দিন বেপারী বাড়ির আলমগীর হোসেনের বাড়িতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশের লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। এ তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ে কচুয়া সার্কেল ও শাহরাস্তি থানার ওসির নেতৃত্বে আলমগীর হোসেনের পূর্ব দুয়ারী চৌচালা টিনশেড ঘরে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে ঘর থেকে একটি ৯ এমএম (তারাস) পিস্তল, একটি ৭.৬২ চায়না পিস্তল, চারটি ম্যাগাজিন, ৩০ রাউন্ড গুলি, পুলিশের পোশাক, বেল্ট, চশমা, বডি ক্যামেরা, গ্যাস মাস্কসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এ সময় ঘরের বাসিন্দা আলমগীর হোসেনের স্ত্রী লাভলী বেগম ও তার ছেলে ফয়সাল হোসেন শাকিলকে গ্রেফতার করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ফিরোজ হোসেন জানান, একটি মোবাইল ফোন চুরির ঘটনায় আলমগীর হোসেনের ঘরে তল্লাশি চালানোর সময় একটি পুরনো গিটারের ভেতরে পিস্তল দেখতে পান তারা। এতে সন্দেহ বাড়লে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ এসে পুরো ঘর তল্লাশি করে এসব অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লাভলী বেগম উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও সরঞ্জামগুলো ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট একটি থানায় লুট হওয়া অস্ত্র বলে স্বীকার করেছেন।
শাহরাস্তি থানার ওসি মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) লুৎফর রহমান। এ ঘটনায় মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) লুৎফর রহমান বলেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের গোপন সংবাদের ভিত্তিতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও সরঞ্জামের বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়