
বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে যশোরজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। প্রিয় নেত্রীর মৃত্যুসংবাদ শুনে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের হাজারো নেতাকর্মী শোকে পাথর হয়ে পড়েন। মঙ্গলবার সকাল থেকেই তারা ছুটে আসেন যশোর জেলা বিএনপির কার্যালয়ে। কান্না, হাহাকার আর নিস্তব্ধতার মধ্যে সেখানে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করে যশোর জেলা বিএনপি দলীয় পতাকা অর্ধনমিত করে এবং কালো পতাকা উত্তোলন করে। শোকের প্রতীক হিসেবে জেলা বিএনপি ও এর সব অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা কালো ব্যাচ ধারণ করেন। এ সময় অনেকেই আবেগ ধরে রাখতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
দলীয় কার্যালয়ে কোরআন খতম ও তেলাওয়াত শুরু হয়েছে। পাশাপাশি মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। এছাড়া জেলা বিএনপির কার্যালয়ে একটি শোক বই খোলা হয়।
মঙ্গলবার সকালে শোক বইতে সর্বপ্রথম স্বাক্ষর করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম। এরপর শোক বইতে স্বাক্ষর করেন যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকনসহ জেলা, উপজেলা ও বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এদিকে জেলা শহরের পাশাপাশি উপজেলার প্রতিটি পাড়া-মহল্লা ও গ্রামে গ্রামে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে দোয়া ও বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। মসজিদে মসজিদে মিলাদ মাহফিল ও দোয়া অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে নেতাকর্মীরা প্রয়াত নেত্রীর রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
শোক প্রকাশ করে যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, “আজ আমরা আমাদের রাজনৈতিক অভিভাবককে হারিয়েছি। তিনি ছিলেন আপোষহীন নেত্রী, যিনি কখনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি। তার শূন্যতা কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়। এটি দলের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।” তিনি আরও বলেন, “এই আপোষহীন নেত্রীকে যারা দীর্ঘদিন কষ্ট দিয়েছে এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার করেছে, তাদের বিচার আল্লাহই করবেন। ইতিহাস তাদের কখনো ক্ষমা করবে না।”
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া শুধু বিএনপির নেত্রী নন, তিনি ছিলেন গণতন্ত্রের প্রতীক। তার নেতৃত্বে দল বহু সংকট ও দমন-পীড়ন মোকাবিলা করেছে। আজ তার মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।”
জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার রবিউল ইসলাম বলেন, “আমাদের সবার আশা ছিল বেগম খালেদা জিয়া আবার সুস্থ হয়ে ফিরে আসবেন এবং এ দেশের নেতৃত্ব দেবেন। কিন্তু সেই আশা আর পূরণ হলো না। তার মৃত্যু আমাদের জন্য এক অপূরণীয় বেদনা।”
শোক কর্মসূচিতে জেলা বিএনপির পাশাপাশি যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দলসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। সবাই প্রয়াত নেত্রীর আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তার আদর্শে ঐক্যবদ্ধ থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৫
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি
Leave a Reply