জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠন জলসিঁড়ি চার দিনব্যাপী ‘জলসিঁড়ি নবান্ন উৎসব ২০২৫’ আয়োজন করেছে। উৎসব শুরু হবে ১৬ নভেম্বর এবং চলবে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত।
১৬ নভেম্বর প্রথম দিনে থাকছে জলসিঁড়ির নিজস্ব সঙ্গীতানুষ্ঠান ‘অঘ্রাণে নবান্নের উৎসবে’।
১৭ নভেম্বর দ্বিতীয় দিনে মঞ্চস্থ হবে পদাতিক নাট্য সংসদের নাটক ‘আলিবাবা এবং চল্লিশ চোর’।
১৮ নভেম্বর তৃতীয় দিনে পরিবেশিত হবে জলসিঁড়ির নিজস্ব প্রযোজনা ‘রক্তকরবী’।
২১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে সংগঠনের পুনর্মিলনী ও দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠান।
এর আগে পদাতিক নাট্য সংসদের ৪৫তম প্রযোজনা ‘আলিবাবা এবং চল্লিশ চোর’ গত ৮ ও ৯ নভেম্বর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল হলে উদ্বোধনী মঞ্চায়ন হয়। নাট্যরূপ দিয়েছেন উম্মে হানী এবং নির্দেশনা দিয়েছেন সুদীপ চক্রবর্তী।
নির্দেশনা সহযোগ, আলো, সংগীত ও আবহধ্বনি পরিকল্পনায় ছিলেন আহম্মেদ রাউফুর রহিম, রুদ্র সাওজাল কাব্য, রাইসা হাসিন ও অন্যরা। নৃত্য ও দেহবিন্যাসে কাজ করেছেন সৈয়দা শামসি আরা, পোশাক পরিকল্পনায় ছিলেন মুনিরা মাহজাবীন মিমো। দ্রব্য ও অলংকার পরিকল্পনা করেছেন সৈয়দা শামসি আরা ও উম্মে হানী।
নাটকে অভিনয় করেন শরীফ, মেঘা, শামছি আরা সায়েকা, জিয়াউল হক, জিনিয়া আজাদ, শাখাওয়াত হোসেন শিমুলসহ আরও অনেকে।
নাটকের গল্প আরব্য রজনীর এক বিখ্যাত গল্পকে কেন্দ্র করে। সম্রাট শাহরিয়ার এক নারীবিদ্বেষী শাসকে পরিণত হওয়ার পর প্রতিদিন এক নারীকে বিয়ে করে রাতভর গল্প না শুনাতে পারলে ভোরে হত্যা করার নির্দেশ দেন। বাকিদের মতো উজিরের বড় কন্যা শেহেরজাদকেও এ নিয়ম মানতে হয়। কিন্তু তিনি গল্প বলতে বলতে হাজার রাত পেরিয়ে শাহরিয়ারকে মানবিক করে তোলেন। তাঁর বলা বহু গল্পের একটি হলো ‘আলিবাবা এবং চল্লিশ চোর’।
গল্পে দেখা যায়, কাঠুরে আলিবাবা বনের গুহায় ডাকাতদের গোপন ধনের সন্ধান পায়। লোভে পড়ে তার ভাই কাসিম সেখানে গিয়ে ডাকাতদের হাতে প্রাণ হারায়। ডাকাতরা পরে আলিবাবাকে খুঁজে তার বাড়িতে হামলার চেষ্টা করে। কিন্তু গৃহকর্মী মার্জিনা বুদ্ধি ও কৌশলে তাদের পরিকল্পনা ভণ্ডুল করে দেন। শেষে ডাকাতদের বিচার ও লুট করা সম্পদের বণ্টনের মধ্য দিয়ে গল্পের সমাপ্তি ঘটে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়