
চকরিয়ার গ্রামাঞ্চলে ওয়ান এক্সবেট, মেলবেট, নগদ এইটিএইট, ক্রিকেক্স, জিতবাজ, বেটউইনার, টুয়েন্টিটুবেট, মোস্টবেট, বেটজিলি—এর মতো অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্ম মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়েছে। উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও ১ পৌরসভায় অনলাইন জুয়া এখন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
স্মার্টফোনের সহজলভ্যতার কারণে কিশোর-তরুণরা গভীরভাবে এ আসক্তির মধ্যে জড়িয়ে পড়ছে। যারা এক সময় খোলা মাঠে ফুটবল-ক্রিকেট খেলত, তারা এখন বিকেল কাটায় চায়ের দোকান বা টং দোকানে বসে মোবাইল স্ক্রিনে অনলাইন গেমে মগ্ন হয়ে।
চিরিংগা ইউনিয়নের দশম শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী সাদ্দাম হোসেন অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হয়ে স্কুল জীবন থেকেই ঝরে পড়েছে। তার মতো আরও অনেক শিক্ষার্থী জুয়ায় আসক্ত হয়ে বিপথগামী হচ্ছে, শত শত পরিবার অর্থনৈতিকভাবে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক জানান, “ছেলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে গেছি। নানা অজুহাতে টাকা আদায় করত। পরে জানতে পারি সে অনলাইন জুয়ায় আসক্ত। ছেলের দেনা শোধ করতে আমার সহায়-সম্বল বিক্রি করে প্রায় ১০ লাখ টাকা দিয়েছি।” তিনি অভিযোগ করেন, ছিকলঘাট বাজারের এক এজেন্ট তার ছেলেকে জুয়ার ফাঁদে ফেলেছে—যারা পুরো চকরিয়া অঞ্চলে এসব প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করছে।
তরুণদের অনেকেই জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা পর্নোগ্রাফি সাইটে প্রদর্শিত বিজ্ঞাপন থেকেই তারা এসব জুয়ার সাইটে প্রবেশের পথ পায়।
বদরখালী ইউনিয়নের ফুলতলা এলাকার ছৈয়দ নুর বলেন, “কিস্তির টাকা ছেলে চুরি করে জুয়ায় হেরে পাঁচ দিন ঘরে ফেরেনি।”
সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫-এর ২০ ধারা অনুযায়ী অনলাইন জুয়ায় অংশগ্রহণ বা প্রচারণা করা ফৌজদারি অপরাধ।
চকরিয়া আবাসিক মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জুবাইদুল হক বলেন, “অনলাইন জুয়া মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়েছে। এখনই সবাই সোচ্চার না হলে এই জুয়া পরিবার, সমাজ ও দেশকে ধ্বংস করে দেবে। অনলাইন জুয়ার সাইটগুলো বন্ধে সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে এবং সামাজিকভাবে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।”
আইনি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও এলাকার গভীর গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত অনলাইন বেটিং দমনের কোনো তেমন স্থায়ী অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আতিকুর রহমান জানান, “গত দুই আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় অনলাইন জুয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। চকরিয়া থানা ও বিট পুলিশকে অনলাইন জুয়াড়িদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
এছাড়া স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের শিক্ষার্থীদের সচেতন করা, এবং মসজিদের ইমামদের খুতবায় জুয়ার কুফল তুলে ধরার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৫
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি
Leave a Reply