রমজানের চাঁদ উদয়ের সঙ্গে সঙ্গে রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের সুবাতাস বইতে শুরু করে। এ মাসে আল্লাহতায়ালা বান্দাদের জন্য জান্নাতের পথ সুগম করে দেন এবং জাহান্নামের দরজাগুলো রুদ্ধ করে দেন। ফলে মুমিন বান্দারা সহজেই নেক আমল করে আখেরাতের পাথেয় সঞ্চয় করতে পারে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন রমজানের আগমন ঘটে, তখন জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানদের শৃঙ্খলিত করা হয়।’ (মুসলিম : ১০৭৯)
অন্য হাদিসে এসেছে, ‘রমজানের প্রথম রাতেই শয়তান ও অবাধ্য জিনদের বেঁধে রাখা হয়, জাহান্নামের দরজা বন্ধ করা হয় এবং জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হয়। একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করতে থাকে— হে কল্যাণকামী! অগ্রসর হও, হে অনিষ্টকামী! বিরত হও। আর প্রতি রাতে আল্লাহ বহু জাহান্নামিকে মুক্তি দান করেন।’ (তিরমিজি : ৬৮২)
রমজান দোয়া কবুলের মাস। এ মাসে প্রতিদিন ও প্রতিরাতে অসংখ্য মানুষ জাহান্নাম থেকে মুক্তি পায় এবং মুমিন বান্দার একটি করে দোয়া কবুল করা হয়। রাসুল (সা.) বলেন, ‘আল্লাহতায়ালা রমজান মাসের প্রত্যেক দিন ও রাতে অসংখ্য ব্যক্তিকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন এবং প্রত্যেক মোমিন বান্দার একটি করে দোয়া কবুল করেন।’ (মুসনাদে আহমদ : ৭৪৫০)
ইফতারের সময় দোয়া বিশেষভাবে কবুল হয়। ‘ইফতারের সময় রোজাদারের দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৭৫৩)
রমজান এমন এক বরকতময় মাস, যেখানে ছোট আমলেও বিশাল সওয়াব পাওয়া যায়। রাসুল (সা.) বলেন, ‘রমজানে একটি নফল ইবাদত অন্য মাসের একটি ফরজ ইবাদতের সমান। আর একটি ফরজ ইবাদত অন্য মাসের ৭০টি ফরজের সমান।’ (সহিহ ইবনে খোজাইমা : ১৮৮৭)
আরও এসেছে, ‘রমজানে পালিত ওমরা একটি হজের সমান।’ (মুসলিম : ১২৫৬)
রোজার মর্যাদা সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, ‘রোজা আমার জন্য এবং আমিই তার প্রতিদান দেব।’ (মুসলিম : ১১৫১)
রমজান হলো গোনাহ মাফের মাস। ঈমান ও সওয়াবের প্রত্যাশায় রোজা রাখা ও ইবাদত করার মাধ্যমে পূর্বের গোনাহ মাফ হয়ে যায়। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াবের প্রত্যাশায় রমজান মাসে রোজা রাখবে, তার পূর্ববর্তী জীবনের সব গোনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।’ (বোখারি : ২০১৪)
আরও এসেছে, ‘পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, দুই জুমা ও দুই রমজানের মধ্যবর্তী সময়ের গোনাহ মাফ করে দেয়, যদি কবিরা গোনাহ থেকে বেঁচে থাকা হয়।’ (মুসলিম : ২২৩)
কিয়ামতের দিন রোজা ও কোরআন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘রোজা বলবে— হে আমার প্রতিপালক! আমি তাকে খাদ্য ও কামনা থেকে বিরত রেখেছি, তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ গ্রহণ করুন। কোরআন বলবে— আমি তাকে রাতে ঘুম থেকে বিরত রেখেছি, তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ গ্রহণ করুন। তখন তাদের উভয়ের সুপারিশ গ্রহণ করা হবে।’ (মুসনাদে আহমদ : ৬৬২৬)
রোজাদারদের জন্য জান্নাতে রয়েছে বিশেষ একটি দরজা— “রাইয়ান”। নবীজি (সা.) বলেন, ‘জান্নাতে রোজাদারদের জন্য একটি বিশেষ দরজা আছে, যার নাম রাইয়ান। এ দরজা দিয়ে কেবল রোজাদাররাই প্রবেশ করবে। সর্বশেষ রোজাদার প্রবেশ করলে দরজাটি বন্ধ করে দেওয়া হবে। যে এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে, সে এমন পানীয় পান করবে, যার পর আর কখনও তৃষ্ণার্ত হবে না।’ (সুনানে নাসায়ি : ২২৩৬)
রমজান মাস রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। এ মাসে ইবাদতের মাধ্যমে জান্নাতের পথে অগ্রসর হওয়া এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভের সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে। তাই আসুন, রমজানের প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের আখেরাতের জন্য প্রস্তুত করি।







