1. info@www.media71bd.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.media71bd.com : TV :
বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:০৫ পূর্বাহ্ন

নস্টালজিয়া ছাড়িয়ে ২০২৫ সালে নতুন জোয়ারে রুনস্কেপ

টেক ডেস্ক
  • Update Time : শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী, ২০২৬

বন্ধুদের ফোন করা, পিজা অর্ডার দেওয়া আর পিসিতে বসে রুনস্কেপ খেলা—এই দৃশ্য অনেকের কাছেই ফিরিয়ে নেয় ডায়াল-আপ ইন্টারনেট, এমএসএন মেসেঞ্জার আর ন্যাপস্টারের দিনে। তবে বিস্ময়ের বিষয় হলো, ২০২৫ সালে রুনস্কেপ কেবল স্মৃতির গেম হয়ে থাকেনি; বরং আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি মানুষ আবার এই গেমে ফিরেছেন।

২০০১ সালে যাত্রা শুরু করা অনলাইন মাল্টিপ্লেয়ার গেম রুনস্কেপ ২০২৫ সালে নতুন করে জনপ্রিয়তার জোয়ার দেখছে। গেমটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জ্যাজেক্স জানিয়েছে, বছরের শুরু থেকে পেইড মেম্বারের সংখ্যা ৩০ শতাংশ বেড়ে ১০ লাখ ছাড়িয়েছে। এর বাইরে আরও কয়েক মিলিয়ন খেলোয়াড় বিনা মূল্যে গেমটি খেলছেন।

২০২৫ সালেই রুনস্কেপ ছুঁয়েছে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। একসঙ্গে ২ লাখ ৪০ হাজার খেলোয়াড় গেমে লগইন করেন— যা ২৫ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। তুলনায় বলা যায়, বর্তমানে জনপ্রিয় গেমিং প্ল্যাটফর্ম স্টিমে মাত্র তিনটি গেমে এর চেয়ে বেশি সক্রিয় খেলোয়াড় রয়েছে।

বর্তমানে রুনস্কেপ মূলত দুই সংস্করণে খেলা হচ্ছে—

  • রুনস্কেপ (RS3): আধুনিক গ্রাফিক্স ও ফিচারসমৃদ্ধ সংস্করণ

  • ওল্ড স্কুল রুনস্কেপ: ২০০৭ সালের গেমপ্লে ভিত্তিক নস্টালজিক সংস্করণ

বিশেষ করে ওল্ড স্কুল রুনস্কেপ দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। জ্যাজেক্সের সিইও জন বেলামি একে “বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল এমএমও গেম” বলে উল্লেখ করেছেন—যা দুই দশকেরও বেশি পুরোনো একটি গেমের জন্য সত্যিই ব্যতিক্রমী।

গেম ডিজাইনার মলি মেসনের মতে, রুনস্কেপের জনপ্রিয়তার পেছনে রয়েছে এক বিশেষ বৈশিষ্ট্য, যাকে তারা বলেন ‘রুনস্কেপিনেস’। এর মধ্যে রয়েছে ব্রিটিশ রসিকতা, মন্টি পাইথনের ধাঁচের হাস্যরস এবং শক্তিশালী কমিউনিটি-কেন্দ্রিক সংস্কৃতি।

আধুনিক গেমিং দুনিয়ায় প্রায় অচিন্তনীয় একটি সিদ্ধান্ত নেয় জ্যাজেক্স। খেলোয়াড়দের ভোটের মাধ্যমে গেম থেকে অনেক ইন-গেম মাইক্রোট্রানজ্যাকশন তুলে দেওয়া হয়—যা সাধারণত বড় আয়ের উৎস। খেলোয়াড়রা বিপুলভাবে এই সিদ্ধান্তের পক্ষে ভোট দেন। জন বেলামি বলেন, “১০ থেকে ১৫ বছরের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার বিশ্বাস, এটি গেমের জন্য সঠিক পথ।”

এ ছাড়া ইউআই উন্নয়ন, কমব্যাট সিস্টেম সহজ করা এবং প্রতিদিন লগইন করতে বাধ্য করার মতো চাপ কমানোর মতো বহু আপডেট আনা হয়েছে—যা খেলোয়াড়রা দীর্ঘদিন ধরে চাইছিলেন।

টুইচ স্ট্রিমার মেগান, যার অনুসারী ২০ হাজারের বেশি, বলেন, “আমরা খুবই সরব একটি কমিউনিটি। আমরা কী চাই আর কী চাই না—সব স্পষ্ট করে বলি। আর তারা আমাদের কথা শোনে। এ কারণেই রুনস্কেপ এখনো সফল।”

রুনস্কেপ অনেকের কাছে শুধু একটি গেম নয়, বরং জীবনের অংশ। এই গেমের মাধ্যমেই বহু খেলোয়াড় তাদের জীবনসঙ্গী খুঁজে পেয়েছেন। ইউটিউবার রায়ান, যিনি ‘দ্য আর এস গাই’ নামে পরিচিত, বলেন, “আমি আমার স্ত্রীকে রুনস্কেপের মাধ্যমেই পেয়েছি। এখানে এটা খুব স্বাভাবিক ঘটনা।”

মলি মেসনের ভাষায়, “আমরা বলি—আপনি কখনো রুনস্কেপ ছেড়ে যান না, শুধু বিরতি নেন। গেমটি সবসময় আপনার জন্য অপেক্ষা করে, আপনার চরিত্রও থাকে।”

দুই দশকের বেশি সময় ধরে খেলোয়াড়দের সঙ্গে বেড়ে ওঠা এই গেম প্রমাণ করে দিচ্ছে—ভালো কমিউনিটি, খেলোয়াড়দের প্রতি সম্মান আর নস্টালজিয়ার শক্তি থাকলে, একটি গেম কখনোই পুরোনো হয়ে যায় না।

Share This Post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়

ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট
error: Content is protected !!