1. info@www.media71bd.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.media71bd.com : TV :
সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ০৭:৪৫ পূর্বাহ্ন

দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকট: চুলা জ্বালাতে হিমশিম, আকাশচুম্বী দামে এলপিজি কিনতে বাধ্য মানুষ

এম আর রোমেল, বিশেষ প্রতিনিধি
  • Update Time : রবিবার, ২৫ জানুয়ারী, ২০২৬

দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকট এবং এলপিজি সিলিন্ডারের উচ্চ মূল্য ও সরবরাহ ঘাটতির কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে ঢাকা ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলগুলোতে পাইপলাইনের গ্যাসের চাপ নেমে গেছে সর্বনিম্ন পর্যায়ে, ফলে রান্নার চুলা জ্বালানোই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শহরের বহু এলাকায় ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গ্যাসের দেখা মিলছে না। এতে স্কুলগামী শিশু ও অফিসগামীদের খাবার প্রস্তুত নিয়ে গৃহিণীরা দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। পাইপলাইনের গ্যাস না পেয়ে অনেকেই এলপিজির ওপর নির্ভরশীল হলেও বাজারে পর্যাপ্ত সিলিন্ডার নেই, আর যেগুলো পাওয়া যাচ্ছে সেগুলো সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ ধীরে ধীরে বাড়তে পারে, তবে এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে। এদিকে সংকট সামাল দিতে কেউ কেউ বিদ্যুৎ–চালিত চুলা কিনছেন। ফলে এসব চুলার দামও বাজারে বেড়ে গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিদিনই গ্যাস সংকট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন গ্রাহকেরা।

তিতাস গ্যাস সূত্র জানায়, দৈনিক তাদের গ্যাসের চাহিদা ১৮০ কোটি ঘনফুটের বেশি। সাধারণত সরবরাহ করা হয় ১৫৫ থেকে ১৬০ কোটি ঘনফুট। তবে গতকাল সরবরাহ আরও কমে ১৪৫ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে। এতে ঢাকার বহু এলাকায় গ্রাহকেরা চুলায় গ্যাস পাচ্ছেন না। রাজধানীর মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা সামাজিক মাধ্যমে নিয়মিত ভোগান্তির কথা জানাচ্ছেন।

মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা রবিন হাসান বলেন, “মাসে ১ হাজার ৮০ টাকা গ্যাস বিল দিয়ে আবার আড়াই হাজার টাকায় এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে হলো। কষ্ট দেখার কেউ নেই।” একই এলাকার শায়লা শারমীন জানান, ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনতে তাকে ২ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। অন্যদিকে শারমীন আকতার ও শামীমা সুলতানা জানান, তারা একই সিলিন্ডার কিনেছেন যথাক্রমে ২ হাজার ২০০ ও ২ হাজার ৫৫০ টাকায়।

মিরপুরের শেওরাপাড়ার বাসিন্দা সুরাইয়া সেঁজুতি বলেন, দুপুরে রান্নার মাঝখানে হঠাৎ এলপিজি শেষ হয়ে যায়। পাড়ার দোকানে না পেয়ে আশপাশ ঘুরে ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনতে হয়েছে ২ হাজার ২৫০ টাকায়, যেখানে সরকার নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৩০৬ টাকা। শ্যামলীর বাসিন্দা রওনক জাহান জানান, মাসের শুরুতেই এলপিজি শেষ হয়ে যাওয়ায় তিনি বিদ্যুৎ–চালিত চুলায় রান্না করছেন, কিন্তু এতে সময় বেশি লাগছে এবং সিলিন্ডার খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

দেশে বর্তমানে এলপিজি গ্রাহক এক কোটির বেশি। জাতীয় নির্বাচন ও পবিত্র রমজান সামনে রেখে এলপিজির ঘাটতি এড়াতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় আমদানি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে। ১২টি এলপিজি কোম্পানি বাড়তি আমদানির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। জানুয়ারিতে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৬০০ টন এবং ফেব্রুয়ারিতে ১ লাখ ৮৪ হাজার ১০০ টন এলপিজি আমদানির কথা বলা হলেও জানুয়ারির শেষ দিকেও বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি।

এলপিজি আমদানিকারকেরা বলছেন, শীত মৌসুমে চাহিদা বেড়ে যায়। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ও বিশ্ববাজারে সংকটের কারণে এলপিজি সংগ্রহ এবং পরিবহন—দুটিই কঠিন হয়ে পড়েছে। নতুন উৎস খোঁজা হচ্ছে এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনও (বিপিসি) আমদানির চেষ্টা করছে। আমদানি বাড়ানো গেলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে পারে।

অন্যদিকে পেট্রোবাংলা জানায়, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট, কিন্তু সরবরাহ করা হচ্ছে প্রায় ২৬০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে এলএনজি থেকে আসছিল প্রায় ৮৫ কোটি ঘনফুট। কক্সবাজারের মহেশখালীতে রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে একটি ভাসমান টার্মিনাল সাময়িক বন্ধ থাকায় সরবরাহ নেমে আসে ৫৮ কোটি ঘনফুটে। পরে রাতের দিকে সরবরাহ চালু হলেও স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে।

গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রক্ষণাবেক্ষণ কাজের সময় এলএনজি থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কম থাকবে। ফলে তিতাসের আওতাধীন আবাসিক, বাণিজ্যিক, শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে গ্যাসের চাপ সাময়িকভাবে কম থাকবে।

More News Of This Category

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়

ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট
error: Content is protected !!