
পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্বাচনী প্রচারকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে দু’পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। ঘটনা ঘটেছে বৃহস্পতিবার বিকেলে সাহাপুর ইউনিয়নের চরগড়গড়ি গ্রামে। আহতদের মধ্যে ৭ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে, বাকিরা বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা পেয়েছেন। সংঘর্ষের সময় একটি ভিডিওতে এক যুবককে সামনে থাকা প্রতিপক্ষের দিকে গুলি ছোড়ার দৃশ্য ধরা পড়ে।
পরে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে ওই যুবকের পরিচয় পাওয়া গেছে। তার নাম তুষার, তিনি ঈশ্বরদী পৌর শহরের ভেলুপাড়া এলাকার তাহের মণ্ডলের ছেলে। তুষার পাবনা-৪ আসনে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডলের ভাতিজা মামুন মণ্ডলের সহচর ও জামায়াতের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত।
সংঘর্ষ নিয়ে উভয় পক্ষের দাবি ভিন্ন:
জামায়াত দাবি করেছে, তাদের প্রচারণার সময় বিএনপি’র লোকজন হামলা চালিয়েছে।
বিএনপি দাবি করেছে, গ্রামের লোকজন একজোট হয়ে জামায়াতের সমর্থকদের ধাওয়া দিয়েছে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, কয়েক দিন ধরেই চরগড়গড়িতে দু’পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। সংঘর্ষের দিন বিকেলে জামায়াতের প্রার্থী এলাকায় গণসংযোগে যান। আলহাজ মোড়ে পৌঁছালে বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকরা তাদের বাধা দেন। কথাকাটাকাটির পর আবু তালেব সরে আসেন, তবে ফিরে আসার পথে মৃধাপাড়া মহল্লায় ফের সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় গুলি ছোড়া হয় এবং কয়েকটি মোটরসাইকেল ও জামায়াত প্রার্থীর গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
পাবনা-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব অভিযোগ করেন, প্রকাশ্য দিবালোকে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর গুলি চালানো হয়েছে জামায়াতের তুষার মণ্ডলের মাধ্যমে। তিনি তুষারকে সন্ত্রাসী ও তালেব মণ্ডলের ভাতিজা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
অপর দিকে, পাবনা জেলা জামায়াতে ইসলামী আমীর অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল দাবি করেন, অস্ত্র হাতে ভাইরাল হওয়া যুবক জামায়াতের কেউ নয়। তিনি বলেন, “আমি তাকে চিনি না, তিনি জামায়াতের কর্মী নন।”
ঈশ্বরদী থানার ওসি আ. স. ম. আব্দুন নূর জানান, বিভিন্ন সূত্র থেকে যুবকের নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৫
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি
Leave a Reply