
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পদমর্যাদায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ। বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদের স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজকে তাঁর বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। এই পদে দায়িত্ব পালনকালে তিনি উপদেষ্টার পদমর্যাদা, বেতন-ভাতা ও আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা পাবেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়। সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অধ্যাপক আলী রীয়াজ ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি ছিলেন।
গত বছরের অক্টোবরে সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন, দুর্নীতি দমন কমিশন ও পুলিশ সংস্কারে ছয়টি পৃথক কমিশন গঠন করা হয়। এসব কমিশন তাদের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি ছয় মাস মেয়াদী জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়। ১৫ ফেব্রুয়ারি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে কমিশনের কার্যক্রম শুরু হয়।
ঐকমত্য কমিশন ছয় সংস্কার কমিশনের ১৬৬টি সুপারিশ পর্যালোচনা করে প্রথম দফায় ৬২টি সংস্কারে এবং দ্বিতীয় দফায় আরও ২২টি মৌলিক সংস্কারে ঐকমত্যে পৌঁছায়। মোট ৮৪টি সংস্কারের প্রস্তাব প্রণয়ন করা হয়। পরে আগস্টে কমিশনের মেয়াদ এক মাস বাড়ানো হয়।
১৭ সেপ্টেম্বর রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। ১৭ অক্টোবর প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করেন।
সেদিন অনুষ্ঠানের শুরুতে ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “আমাদের অনেক স্রোত, কিন্তু মোহনা একটি। সেটি হলো গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ তৈরি করা। সেই স্বপ্ন, প্রত্যাশার স্মারক যতটুকু অর্জিত হয়েছে, জুলাই জাতীয় সনদ তার প্রথম পদক্ষেপ।”
তিনি আরও বলেন, “এই অগ্রসরমানতায় বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের ভূমিকা আছে। প্রত্যাশা থাকবে, রাজনৈতিক দলগুলো মত ও পথের পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও এই যাত্রাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।”
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৫
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি
Leave a Reply