
হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে মানুষ রসুন খেয়ে আসছে। শুধু স্বাদের জন্য নয়, বরং এর ঔষধি গুণাবলীর কারণেও এটি রান্না ও ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসায় অপরিহার্য।
রসুনের অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বা জীবাণুনাশক এবং অ্যান্টিভাইরাল বৈশিষ্ট্য বহু প্রাচীনকাল থেকে পরিচিত।
উৎপত্তি মূলত এশিয়ায় হলেও অভিবাসীদের মাধ্যমে এটি ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রেও ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে চীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় রসুন উৎপাদক।
রোমান সৈন্যরা বিশ্বাস করতেন, রসুন তাদের সাহস ও শক্তি বাড়ায়। এটি ইউরোপজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। প্রাচীন সভ্যতায়—মেসোপটেমিয়া, মিশর, গ্রীস, রোম, চীন ও ভারতে—রসুন ব্যবহৃত হতো।
ড্যানিশ শেফ পল এরিক জেনসেন বলেন, “রসুন ছাড়া ফরাসি রান্না অকল্পনীয়। স্যুপ, সবজি বা মাংসের সব পদেই রসুন থাকে।” ১৯৭০-এর দশকে ডেনমার্কে রসুন প্রায় অচেনা ছিল। পরে তুর্কি শ্রমিকদের মাধ্যমে এবং ইতালিয়ান পিৎজার মাধ্যমে তিনি রসুনের সঙ্গে পরিচিত হন। বর্তমানে তিনি রসুনকে শীতকালীন প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহার করেন।
রসুনের ঔষধি গুণাবলী বহু প্রাচীন। গ্রিক চিকিৎসক হিপোক্রেটাস এবং মিশরের ফারাও তুতেনখামুনের সমাধিতেও রসুন ব্যবহার হতো। এতে উচ্চমাত্রার পটাসিয়াম, ফসফরাস, জিঙ্ক, সালফার এবং মাঝারি পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ ও আয়রন থাকে। এতে অ্যালিসিন নামক যৌগ থাকে, যা অন্ত্রের জন্য উপকারী।
গবেষণায় দেখা গেছে, রসুনের অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল, অ্যান্টিভাইরাল এবং অ্যান্টিফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্য আছে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, রসুন ও লেবুর রস কোলেস্টেরল ও রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে, তবে সব গবেষণায় তা প্রমাণিত নয়।
প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রতিদিন ১–২ কোয়া কাঁচা রসুন গ্রহণ নিরাপদ। অতিরিক্ত রসুন, বিশেষ করে খালি পেটে, হজমে অস্বস্তি, গ্যাস এবং অন্ত্রের জীবাণুবalance পরিবর্তন করতে পারে।
সংক্ষেপে, রসুন রান্না ও ঔষধ—দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ, তবে পরিমিতি বজায় রেখে ব্যবহার করা উচিত।
সূত্র: বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস, ‘ফুড চেইন’ প্রোগ্রাম।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৫
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি
Leave a Reply