সব কিছু প্রস্তুত ছিল—কনসার্টের ভেন্যু, সময়, মঞ্চ, সাউন্ড, লাইট; এমনকি পাকিস্তানের আলি আজমতও ৩ দিন আগে ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন। লক্ষ্য একটাই, ১৪ নভেম্বর ঢাকায় জেমসের মঞ্চে গাইবেন আজমত। দুই দেশের দুই তারকার এটি প্রথম মঞ্চ শেয়ার হওয়ায় উভয় পক্ষের আগ্রহ সমান ছিল।
কিন্তু কনসার্টের আগের দিন রাতে (১৩ নভেম্বর) আয়োজক সূত্র নিশ্চিত করেছে, ১৪ নভেম্বরের নির্ধারিত কনসার্টটি বাতিল হচ্ছে। কারণ—রাজনৈতিক পরিস্থিতি।
আয়োজক প্রতিষ্ঠান অ্যাসেন কমিউনিকেশন জানিয়েছে, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থার কারণে প্রশাসনের অনুমতি পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে কনসার্টের নতুন তারিখ শিগগিরই জানানো হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের ডাকা লকডাউনসহ দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে প্রশাসন কনসার্টের অনুমোদন দিয়েও শেষ মুহূর্তে বাতিল করেছে। এড়িয়ে যেতে চাইছে কনসার্টকে ঘিরে সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা।
আজ, ১৪ নভেম্বর, রাজধানীর ইউনাইটেড কনভেনশন সেন্টার-এ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল বহুল প্রতীক্ষিত কনসার্ট ‘লেজেন্ডস লাইভ ইন ঢাকা’। কনসার্টটির প্রধান সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে স্টেট মিডিয়া।
শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) সকালে আয়োজকদের সঙ্গে আলাপে জানা গেছে, কনসার্ট বাতিল হলেও আলি আজমত এখনও ঢাকায় অপেক্ষা করছেন। আয়োজকরা চেষ্টা করছেন, আগামী দুই-চার দিনের মধ্যে কনসার্ট করার অনুমতি পেতে। সেটি সম্ভব না হলে, আলি আজমত ইসলামাবাদে ফিরে যাবেন, আর জেমস ব্যস্ত হবেন তার পরবর্তী ইভেন্টে।
প্রশ্ন ছিল, চড়া মূল্যে কেনা টিকিটের কী হবে। আয়োজকরা নিশ্চিত করেছেন, দর্শকরা টাকা ফেরত পাবেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি আয়োজক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “আমরা দুই দিকই সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। প্রথম, চেষ্টা করছি দুই এক দিনের মধ্যে কনসার্টের অনুমতি পাই। যদি না পাই, দর্শকদের টিকিটের মূল্য ফেরতের তালিকাও তৈরি করেছি। সবাই তাদের টাকা ফেরত পাবেন।”
খবর মিলেছে, শুধু জেমস-আজমতের কনসার্টই নয়, গত দুদিনে দেশের বেশিরভাগ আয়োজনও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্ধ করা হয়েছে। প্রশাসন চাচ্ছে, এসব অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটুক না।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়