একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচটি ব্যাংকের আমানতকারীদের ২০২৪ ও ২০২৫ সালের আমানতের মুনাফা কেটে রাখার সিদ্ধান্ত দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রোববার (১৮ জানুয়ারি) থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের আমানত থেকে পরিশোধিত মুনাফা কর্তন শুরু করেছে। এতে মোট প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা আমানত থেকে কেটে রাখা হবে, যার ফলে হাজার হাজার গ্রাহকের আমানত কমে যাচ্ছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিলম্বে ঘোষিত এই নির্দেশনার মাধ্যমে আগেই পরিশোধ করা মুনাফা কেটে নেওয়াকে ব্যাংকিং নীতিমালার পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর সম্প্রতি জানিয়েছেন, একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীরা ২০২৪ ও ২০২৫ সালে তাঁদের জমাকৃত অর্থের ওপর কোনো মুনাফা পাবেন না। আন্তর্জাতিক রীতি অনুসরণ করে দুই বছরের মুনাফা ‘হেয়ারকাট’ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য গত বুধবার পাঁচ ব্যাংকের প্রশাসকদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাংকগুলো ইতোমধ্যে আমানতকারীদের হিসাবে পরিশোধিত মুনাফা কেটে রাখা শুরু করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দুই বছরের মুনাফা না দেওয়ার ফলে পাঁচ ব্যাংকের মোট দায় প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমে গেছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে এসব ব্যাংকের মোট আমানত ছিল ১ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকা। ডিসেম্বর শেষে তা কমে দাঁড়ায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকায়। দুই বছরের মুনাফা কর্তন কার্যকর হলে আমানতের পরিমাণ নেমে আসবে প্রায় ১ লাখ ২১ হাজার কোটি টাকায়। এসব ব্যাংকে প্রায় ৭৫ লাখ আমানতকারী রয়েছেন।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন,
‘মুনাফা কর্তনের সিদ্ধান্ত জানাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অত্যন্ত বিলম্ব করেছে। এই দায় নিয়ন্ত্রক সংস্থার রয়েছে। এখন আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের কার্যকর ভূমিকা রাখা উচিত।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরি বলেন,
‘ব্যাংক একীভূতকরণ সারা বিশ্বেই হয়ে থাকে, বাংলাদেশেও হচ্ছে—এটা ইতিবাচক। কিন্তু প্রশ্ন হলো যারা লুটপাট করেছে, তাদের কী শাস্তি হয়েছে বা কত টাকা উদ্ধার করা গেছে। মূলত লুটেরাদের ছাড় দিয়ে আমানতকারীদের মুনাফা কর্তন করা এক ধরনের বড় আর্থিক শাস্তির শামিল।’
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন,
‘আমানতকারীদের মুনাফার অর্থ মূলধন থেকে কেটে নেওয়াটা অবশ্যই অমানবিক। তবে একই সঙ্গে ব্যাংকিং নীতিমালাও অনুসরণ করতে হয়।’
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়