প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্বাঞ্চলে লাতিন আমেরিকার উপকূলে সন্দেহভাজন মাদকবাহী একটি নৌযানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। এতে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন বাহিনী দাবি করেছে, লক্ষ্যবস্তু হওয়া নৌযানটি মাদক পাচার কার্যক্রমে জড়িত ছিল। তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, এ দাবির সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন কয়েক মাস ধরে পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর ও ক্যারিবীয় সাগরে সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারী নৌযানের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চালানোর দাবি করে আসছে।
ট্রাম্পের মাদকবিরোধী সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে ভেনেজুয়েলা সংলগ্ন ক্যারিবীয় সাগর ও লাতিন আমেরিকার পশ্চিম উপকূলবর্তী প্রশান্ত মহাসাগরে গত সেপ্টেম্বর থেকে এ পর্যন্ত ৪০টিরও বেশি নৌযানে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। এসব অভিযানে ১৩০ জনের বেশি সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারী নিহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ট্রাম্পের অভিযোগ, ওই অঞ্চল থেকে চোরাচালান হয়ে আসা মাদক যুক্তরাষ্ট্রে বহু মানুষের মৃত্যুর কারণ হচ্ছে।
তবে জানুয়ারির শুরুতে ভেনেজুয়েলায় অভিযানে দেশটির প্রেসিডেন্ট **নিকোলাস মাদুরো**কে আটক করে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে এ ধরনের হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, মাদুরো মাদক পাচারকারী গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা করছিলেন।
এদিকে যেসব নৌযানে হামলা চালানো হয়েছে সেগুলো সত্যিই মাদক বহন করছিল কি না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করেনি মার্কিন প্রশাসন।
যদিও ট্রাম্প প্রশাসন এসব অভিযানের আইনি বৈধতা দাবি করে আসছে, অনেক আইন বিশেষজ্ঞ এ ঘটনাগুলোকে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে সমালোচনা করেছেন।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়