
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে শারদীয় দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। উপজেলার ৫৬টি পূজামণ্ডপে প্রতিমা তৈরি, প্যান্ডেল নির্মাণ ও আলোকসজ্জার কাজ এগিয়ে চলছে। নির্ধারিত সময়ে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করতে দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ও প্রতিমা তৈরির কর্মশালা ঘুরে দেখা যায়, কোথাও প্রতিমার কাঠামো নির্মাণ, কোথাও মাটির কাজ, আবার কোথাও চলছে রং ও সাজসজ্জার শেষ পর্যায়ের কাজ। পাশাপাশি মণ্ডপগুলোতে প্যান্ডেল নির্মাণ ও আলোকসজ্জার প্রস্তুতিও চলছে।
মৃৎশিল্পী শ্যামল পাল বলেন, তিনি ও তাঁর ভাই মিলে এবার ১৭টি প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন। শুরুতে কয়েকটি স্থানে পূজার আয়োজন নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত হওয়ায় কাজের চাপ বেড়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব প্রতিমার কাজ শেষ করার চেষ্টা করছেন তাঁরা।
কারিগর পরিমল পাল বলেন, বৃষ্টির কারণে কয়েক দিন কাজ পিছিয়ে গেছে। তাই এখন দিন-রাত কাজ করতে হচ্ছে। প্রতিমার চোখ-মুখ ফুটিয়ে তোলার পর সব ক্লান্তি দূর হয়ে যায়।
শিল্পী কাজল পাল জানান, একটি প্রতিমা তৈরি করতে চার থেকে পাঁচ দিন সময় লাগে। কাঠামো তৈরি, মাটি দেওয়া, শুকানো, রং করা ও সাজসজ্জাসহ প্রতিটি ধাপ সম্পন্ন করে প্রতিমা প্রস্তুত করতে হয়। পূজার আগেই সব কাজ শেষ করার আশা করছেন তিনি।
উপজেলার ভুলতা, সাওঘাট, গোলাকান্দাইল, মুড়াপাড়া, বানিয়াদি, কাঞ্চন, পিতলগঞ্জ ও পূর্বাচলসহ বিভিন্ন এলাকায় এবার ৫৬টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।
রূপগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বিধান কৃষ্ণ রায় বলেন, পূজা নির্বিঘ্নে উদ্যাপনের জন্য উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদ্যাপনের প্রত্যাশা করছেন তাঁরা।
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম আব্দুল্লাহ বিন শফিক বলেন, দুর্গাপূজায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসন প্রস্তুতি নিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি আনসার সদস্য, স্বেচ্ছাসেবক ও জনপ্রতিনিধিরা নজরদারিতে থাকবেন। প্রতিটি পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে।
তিনি আরও বলেন, আজান ও নামাজের সময়ের প্রতি সম্মান রেখে পূজা-অর্চনার কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বা অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান শেষে ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনের এই উৎসব শেষ হবে।