
ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে অধিকৃত পশ্চিম তীরে সর্বাত্মক অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে দেশটি। এর ফলে প্রায় এক হাজার সামরিক চেকপোস্ট বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং রামাল্লা শহরে যাতায়াতের পথগুলোতে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
হেবরনে একটি সামরিক চৌকিতে গুলির ঘটনায় দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পর ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এর অংশ হিসেবে শহরটির তিনতলা একটি ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় পরিবারগুলোর অভিযোগ, বাড়ি থেকে মালামাল সরিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য তাঁদের মাত্র পাঁচ মিনিট সময় দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বাড়িতেও অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এ সময় তাঁদের কয়েকজন স্বজনকে আটক করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসরায়েলের শীর্ষ কর্মকর্তারা হেবরনে ‘জেনিন মডেল’ প্রয়োগের কথা বলেছেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জেনিনে ইসরায়েলি অভিযানে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির ঘটনাকে বোঝাতে এ শব্দ ব্যবহার করা হচ্ছে।
হেবরনের হামলার জবাবে এসব পদক্ষেপকে কঠোর প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে বর্ণনা করেছেন ইসরায়েলি কর্মকর্তারা। শুক্রবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর দেশটির সামরিক বাহিনীর প্রধান এয়াল জামির বলেন, হামলায় জড়িত সবাইকে খুঁজে বের করে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও জানিয়েছেন, পরিকল্পিত সামরিক অভিযান হবে ১৯৬৭ সালে পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম ও গাজার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর পরিচালিত অন্যান্য অভিযানের চেয়ে ভিন্ন।
এদিকে, ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির পশ্চিম তীরের সড়কে ফিলিস্তিনিদের চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপের হুমকি দিয়েছেন। তিনি ফিলিস্তিনিদের চলাচলের স্বাধীনতার চেয়ে ইসরায়েলিদের জীবনকে অনেক বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন।
ইসরায়েলের এসব পদক্ষেপের ফলে পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের দৈনন্দিন চলাচল, চিকিৎসাসেবা গ্রহণ এবং কর্মস্থলে যাতায়াত ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে রামাল্লাসহ বিভিন্ন শহরের সঙ্গে যোগাযোগ সীমিত হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে।
ফিলিস্তিনিদের আশঙ্কা, হেবরনের হামলার পর তাঁদের ওপর সম্মিলিত শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মাত্রা আরও বাড়তে পারে। তাঁদের অভিযোগ, ইসরায়েলের দখলদারত্বের মধ্যে এ ধরনের পদক্ষেপ দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। তবে ঘোষিত অবরোধের পূর্ণ পরিধি ও বাস্তবায়ন পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রয়োজন।