1. live@www.media71bd.com : Media 71 : Media 71
  2. info@www.media71bd.com : Media 71 :
শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৩৬ অপরাহ্ন

কারখানা শ্রমিকদের ছুটি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬

তীব্র গ্যাস সংকটে ময়মনসিংহের ভালুকা ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। গ্যাসের চাপ কম থাকায় বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরের খাবারের সময় পর্যন্ত ধাপে ধাপে ২০টি কারখানার শ্রমিকদের ছুটি দিতে হয়েছে। অন্য কারখানাগুলোতেও উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে শিল্প পুলিশ-৫-এর পুলিশ সুপার মো. আনছার উদ্দিন জানান, সকাল থেকেই শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। গ্যাসের সংকটের মধ্যেই শ্রমিকরা কারখানায় এলেও উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়নি।

শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ভালুকা পৌর এলাকা ও তিতাসের কার্যালয়ের আশপাশের কিছু কারখানায় গ্যাসের চাপ থাকলেও দূরবর্তী শিল্পকারখানাগুলোতে চাপ প্রায় ছিল না। চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস না পাওয়ায় একের পর এক কারখানার উৎপাদন বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। কোনো কোনো কারখানায় অর্ধেকের বেশি মেশিন বন্ধ রাখতে হয়েছে।

৯৯ কারখানায় গ্যাস সংকট

শিল্প পুলিশ-৫ (ময়মনসিংহ ইউনিট) জানিয়েছে, ওই অঞ্চলে মোট ২৯৩টি কারখানার মধ্যে ৯৯টি গ্যাসনির্ভর। বর্তমানে এসব কারখানার প্রায় প্রতিটিই তীব্র গ্যাস সংকটে রয়েছে।

জেনারেটর ও বিদ্যুৎ ব্যবহার করে আংশিক উৎপাদন চালু রাখার চেষ্টা করা হলেও তা চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত নয়। ফলে শিল্পাঞ্চলের সামগ্রিক উৎপাদন ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

গ্যাস সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে টেক্সটাইল ও স্পিনিং মিলগুলো। গৌরীপুরের টয়ো স্পিনিং মিলসে ৫০টি মেশিনের মধ্যে ৪৩টি বন্ধ রাখতে হয়েছে। মাত্র সাতটি মেশিন পিডিবির বিদ্যুৎ ব্যবহার করে সচল রাখা সম্ভব হয়েছে।

ভালুকার সীমা স্পিনিং মিলসে গ্যাসের সংকটে ৩০টি মেশিন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। বাশার স্পিনিং, নরটেক্স টেক্সটাইল ও ডেল্টা স্পিনার্সেও উৎপাদন ৫০ শতাংশ বা তার বেশি কমেছে।

অন্যদিকে এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইলে গ্যাসের স্বাভাবিক চাপ না থাকায় ৪০ শতাংশ মেশিন অচল হয়ে পড়েছে। সিরামিক খাতের এক্সিলেন্ট সিরামিকসের ফার্নেস বন্ধ থাকায় উৎপাদন অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে।

২০ কারখানায় শ্রমিকদের ছুটি

শিল্প পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার গোপীনাথ কাঞ্জিলাল জানান, সকাল থেকেই গ্যাসের চাপ কমতে শুরু করে। সাধারণত এসব কারখানা বিকেল ৫টা থেকে ৬টা পর্যন্ত চলে। কিন্তু গ্যাস সংকটের কারণে দুপুরের খাবারের সময় মাহাদি সোয়েটার্স, সুলতানা সোয়েটার্স, লিজ ফ্যাশন, টিএম টেক্সটাইল, ত্রিশাল টেক্সটাইল ও বিএসপি স্পিনিং মিলসহ ২০টি প্রতিষ্ঠান শ্রমিকদের ছুটি দিয়ে দেয়।

তবে তিতাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিকেল ৫টার পর গ্যাসের চাপ বাড়তে পারে। সে সময় অন্যান্য কারখানায় উৎপাদন আংশিকভাবে স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরেই কম গ্যাসের চাপ

ভালুকার গ্লোরি টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলসের ইউটিলিটি বিভাগের ব্যবস্থাপক সোহেল আহাম্মেদ জানান, প্রায় দেড় থেকে দুই মাস ধরে তাঁদের কারখানায় গ্যাসের চাপ কম।

তিনি বলেন, কারখানায় গ্যাসের প্রয়োজনীয় চাপ ১৫ পিএসআই হলেও বর্তমানে ১১ থেকে ১২ পিএসআই পাওয়া যাচ্ছে। এতে উৎপাদন প্রায় ৩ থেকে ৪ শতাংশ কমেছে।

এদিকে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ময়মনসিংহের ভালুকা আঞ্চলিক কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক (সিস্টেম অপারেশন) শামীম হোসেন জানান, ভালুকা এলাকায় ১৪০ ও ৫০ পিএসআইয়ের দুটি পৃথক লাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩০ থেকে ৫০ পিএসআই।

তিনি বলেন, সরবরাহ কম পাওয়ার কারণেই গ্যাসের চাপ কমে গেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এভাবেই সরবরাহ ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
© ২০২৬- প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট

You cannot copy content of this page