1. dsdc.mostafiz@gmail.com : mrahman :
  2. live@www.media71bd.com : Media 71 : Media 71
  3. info@www.media71bd.com : Media 71 :
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫০ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষঃ
নভেম্বরে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দিতে চায় রূপপুর, দ্বিতীয় ইউনিটের লক্ষ্য জুনে নির্বাচিত হই বা না হই, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ছেড়ে যাইনি: কাজী আলাউদ্দীন দিঘলিয়া থানার নবাগত ওসির সঙ্গে উপজেলা প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ তিস্তায় অবৈধ পাথর উত্তোলন বিরোধী টাস্কফোর্স অভিযানে মেশিন জব্দ, ট্রাক আটক পশ্চিম ফিলিপাইন সাগরে চীনের চাপ, প্রতিরক্ষা জোরদারে নতুন কৌশল নিচ্ছে ফিলিপাইন একই মঞ্চে জেমস-হাসান, ২৩ অক্টোবর ঢাকায় রক কনসার্ট ইসরায়েলের নির্বাচনে ভোটাধিকার নেই পশ্চিম তীরের ৩০ লাখ ফিলিস্তিনির এলপিজির বাজারে অস্থিরতা, ১ হাজার ৮৩৭ টাকার সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৬০০ টাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে সপ্তাহে দুই দিন ঘরবাড়ি পরিষ্কারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ

পশ্চিম ফিলিপাইন সাগরে চীনের চাপ, প্রতিরক্ষা জোরদারে নতুন কৌশল নিচ্ছে ফিলিপাইন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬

পশ্চিম ফিলিপাইন সাগরে চীনের ক্রমবর্ধমান সামুদ্রিক উপস্থিতি ও চাপ মোকাবিলায় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার এবং ডিজিটাল মাধ্যমে অপতথ্য প্রতিরোধের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে ফিলিপাইন। অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান লোয়ি ইনস্টিটিউটের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের কর্মকাণ্ডের ছবি, ভিডিও ও প্রতিবেদন প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ হলেও, শুধু তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে পরিস্থিতির পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিতর্কিত সামুদ্রিক এলাকায় চীনা জাহাজের উপস্থিতি, ফিলিপাইনের নৌযানের চলাচলে বাধা এবং বিভিন্ন ধরনের চাপ অব্যাহত রয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় এবং ডিজিটাল মাধ্যমে অপতথ্য মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

ফিলিপাইনের পশ্চিম ফিলিপাইন সাগরবিষয়ক জাতীয় টাস্কফোর্স জানিয়েছে, পালাওয়ান প্রদেশের ফিলিপাইন-নিয়ন্ত্রিত কোটা দ্বীপের কাছে চীনের সামুদ্রিক মিলিশিয়ার ২২টি জাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে। চীনা সামুদ্রিক মিলিশিয়ার ৯৬২২ নম্বর জাহাজটি ২২টি ছোট নৌযান নিয়ে প্রায় দুই সপ্তাহ পর একই এলাকায় ফিরে আসে। টাস্কফোর্সের অভিযোগ, এসব নৌযান সেখানে অনুমতি ছাড়া মাছ ধরা এবং সমুদ্রে বর্জ্য ফেলার কাজে জড়িত ছিল।

এর আগে ৮ অক্টোবর আয়ুঙ্গিন শোল এলাকায় ফিলিপাইনের একটি চিকিৎসা ও উদ্ধার মিশনে জলকামান ব্যবহার করে চীনা কোস্টগার্ড। ফিলিপাইনের সামরিক উপস্থিতির প্রতীক হিসেবে পরিচিত বিআরপি সিয়েরা মাদ্রে জাহাজ থেকে একজন সেনাকে সরিয়ে নেওয়াই ছিল ওই মিশনের উদ্দেশ্য।

স্প্রাটলি দ্বীপপুঞ্জের বিতর্কিত মিসচিফ রিফ এলাকায় চীনের সামরিকীকরণের প্রতিক্রিয়ায় ১৯৯৯ সালে ফিলিপাইন ইচ্ছাকৃতভাবে বিআরপি সিয়েরা মাদ্রে জাহাজটি আয়ুঙ্গিন শোলে স্থাপন করে। এরপর থেকে জাহাজটি ওই এলাকায় ফিলিপাইনের উপস্থিতি বজায় রাখার গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হয়ে রয়েছে।

দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমানো এবং ভুল হিসাব-নিকাশ থেকে সংঘাতের ঝুঁকি হ্রাসের লক্ষ্যে ২০২৪ সালে একটি অস্থায়ী সমঝোতা হয়েছিল। তবে ফিলিপাইনের অভিযোগ, সমঝোতার পরও বিতর্কিত এলাকায় তাদের রসদ সরবরাহ ও সেনা পরিবর্তনের অভিযানে বাধা দেওয়া হচ্ছে।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর বিআরপি সিয়েরা মাদ্রে জাহাজে সেনা পরিবর্তন ও রসদ সরবরাহের অভিযানে চীনের কোস্টগার্ড এবং পিপলস লিবারেশন আর্মি নেভি বাধা দেয় বলে জানিয়েছে ফিলিপাইন। এর কয়েক দিন আগে, ১৮ সেপ্টেম্বর ফিলিপিনো জেলেদের কাছে জ্বালানি পৌঁছে দেওয়ার সময় চীনা কোস্টগার্ডের একটি জাহাজের ধাক্কায় ফিলিপাইনের মাছ ধরার সহায়ক নৌযান বিআরপি দাতু মাগাত সালামাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ফিলিপাইনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, পশ্চিম ফিলিপাইন সাগরে চীনের সামরিক ও কোস্টগার্ড জাহাজের উপস্থিতিও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পাক-আসা দ্বীপ, আয়ুঙ্গিন শোল, এসকোদা শোল ও স্কারবরো শোলের আশপাশে চীনের নৌবাহিনী এবং কোস্টগার্ডের ১০১টি জাহাজ শনাক্ত করার কথা জানিয়েছে দেশটি। ২০২৬ সালের আগস্টে এ সংখ্যা ছিল ৫৬।

সামুদ্রিক তৎপরতার পাশাপাশি তথ্য প্রচারের মাধ্যমেও চীন ফিলিপাইনের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে বলে লোয়ি ইনস্টিটিউটের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ইতিহাসের পুনর্ব্যাখ্যা, ফিলিপাইনের স্বাধীনতার গুরুত্ব খাটো করে দেখানো এবং উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে চীনের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরার বিষয়গুলো রয়েছে। এসব প্রচার ফিলিপাইনের প্রভাবশালী মহলে প্রভাব বিস্তার এবং অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরিতেও ভূমিকা রাখতে পারে।

সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক ফোর্বস গ্লোবাল সিইও সম্মেলনে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র বলেন, চীনের সঙ্গে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ এবং সংঘাতের বিস্তার ঠেকানোর বাস্তবতা তার দেশ উপলব্ধি করে। তবে এটিকে চীনের কাছে নতি স্বীকার হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

ফিলিপাইন বর্তমানে সামুদ্রিক এলাকায় চীনের কর্মকাণ্ডের ছবি, ভিডিও ও প্রতিবেদন প্রকাশের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এর লক্ষ্য জনসচেতনতা বৃদ্ধি, অপতথ্য মোকাবিলা এবং ২০১৬ সালের সালিশি রায় বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সমর্থন জোরদার করা। তবে এসব উদ্যোগ চীনের আচরণে কতটা পরিবর্তন আনতে পারছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। লোয়ি ইনস্টিটিউটের মূল্যায়ন অনুযায়ী, তথ্য প্রকাশের পাশাপাশি কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলাও জরুরি।

ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট মার্কোস জুনিয়র সরকারের ‘কমপ্রিহেনসিভ আর্কিপেলাজিক ডিফেন্স কনসেপ্ট’ বা সমন্বিত দ্বীপপুঞ্জ প্রতিরক্ষা ধারণায় সামরিক ঘাঁটি বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়া, দূরপাল্লার আঘাত হানার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ভৌগোলিক সুবিধা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। চীনের প্রবেশ-প্রতিরোধ এবং নির্দিষ্ট এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কৌশল মোকাবিলায় এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

এ ক্ষেত্রে বিদেশি সামরিক অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানো, সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের সুযোগ নির্ধারণ এবং অস্ত্র ও অন্যান্য সামরিক সম্পদ মোতায়েনের বিষয়ে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে চীনের তথ্যপ্রভাব মোকাবিলায় জাতীয় স্বার্থ, অভিন্ন মূল্যবোধ ও গ্রহণযোগ্য সীমা সম্পর্কে সরকারের বক্তব্য এবং কার্যক্রমের মধ্যে সামঞ্জস্য রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ফিলিপাইনের বিপুলসংখ্যক মানুষ সংবাদ ও তথ্যের জন্য ফেসবুকের ওপর নির্ভর করেন। ফলে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অপতথ্য ছড়ানো প্রতিরোধ এবং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করাও দেশটির নিরাপত্তা কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। এ কাজে মিত্র দেশ, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রসমর্থিত বা রাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ গণমাধ্যমের ভূমিকা বিবেচনায় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি।

আঞ্চলিক কূটনীতিতেও ফিলিপাইনের সামনে নতুন সুযোগ রয়েছে। ২০২৬ সালে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ানের সভাপতির দায়িত্ব কাজে লাগিয়ে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করতে পারে দেশটি। মিয়ানমার সংকট, থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্ত বিরোধ এবং দক্ষিণ চীন সাগরের উত্তেজনা মোকাবিলায় আসিয়ান কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হলে আঞ্চলিক নেতৃত্ব ও সংস্থাটির গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

১৯৬৭ সালে আসিয়ান প্রতিষ্ঠার সময় সদস্য দেশগুলোর ঐকমত্য এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতি আঞ্চলিক বাস্তবতার প্রতিফলন ছিল। তবে বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এসব নীতি কতটা কার্যকর, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আঞ্চলিক নীতিমালা হালনাগাদ এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণে নেতৃত্ব দিতে পারে ফিলিপাইন।

সব মিলিয়ে, পশ্চিম ফিলিপাইন সাগরে চীনের ক্রমবর্ধমান তৎপরতা মোকাবিলায় তথ্য প্রকাশের কৌশল গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা একা যথেষ্ট নয়। প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব জোরদার, ডিজিটাল মাধ্যমে জবাবদিহি নিশ্চিত এবং আঞ্চলিক কূটনীতিকে কার্যকর করার সমন্বিত উদ্যোগই দীর্ঘমেয়াদে ফিলিপাইনের অবস্থান শক্তিশালী করতে পারে বলে মনে করছে লোয়ি ইনস্টিটিউট।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© ২০২৬- প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট

You cannot copy content of this page