
ফুটবল বিশ্বকাপের উত্তেজনার মধ্যেই বড় ধাক্কা খেল নেপাল। সরকারি হস্তক্ষেপ ও তৃতীয় পক্ষের অযাচিত প্রভাবের অভিযোগে দেশটির ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা সর্বনেপাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএনএফএ)-কে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বর্তমানে নেপাল পুরুষ দলের অবস্থান ১৭৫তম, আর নারী দলের অবস্থান ৮৮তম। এএনএফএকে পাঠানো এক চিঠিতে ফিফা জানিয়েছে, ফুটবল প্রশাসনে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ এবং সরকারি সংস্থার অযাচিত প্রভাবের কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ফিফার মহাসচিব ম্যাটিয়াস গ্রাফস্ট্রম বলেন, একটি জাতীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে স্বাধীনভাবে পরিচালিত হতে হবে এবং সরকারি হস্তক্ষেপমুক্ত থাকতে হবে। কিন্তু ফিফার আইন গুরুতরভাবে লঙ্ঘিত হওয়ায় এএনএফএকে অবিলম্বে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ফিফার ভাষ্য অনুযায়ী, এএনএফএ এবং নেপাল ন্যাশনাল স্পোর্টস কাউন্সিলের মধ্যে চলমান বিরোধই এই নিষেধাজ্ঞার অন্যতম কারণ। এর আগে ২০২৬ সালের মার্চে ন্যাশনাল স্পোর্টস কাউন্সিল এএনএফএকে তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছিল। সে সময় সংস্থাটি ফিফা ও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) অনুমোদিত নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্নের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। পরে মে মাসে সেই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।
এএনএফএর মুখপাত্র সুরেশ শাহ বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, “ফিফার এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত উদ্বেগজনক। নেপালের ফুটবলকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করছি, যাতে দ্রুত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা যায়।”
এই স্থগিতাদেশের ফলে নেপাল কোনো আন্তর্জাতিক ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে না। পাশাপাশি ফিফার উন্নয়ন কর্মসূচি, প্রশিক্ষণ, কোর্স এবং আর্থিক সহায়তার সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হবে দেশটির ফুটবল সংস্থা।
তবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পথও খোলা রেখেছে ফিফা। সংস্থাটি জানিয়েছে, ন্যাশনাল স্পোর্টস কাউন্সিল যদি মার্চ মাসের সিদ্ধান্তগুলো বাতিল করে এবং এএনএফএকে স্বাধীনভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সুযোগ দেয়, তাহলে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে।