পরীক্ষা কেন্দ্রের স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে নতুন করে কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে শিক্ষা বোর্ড। নীতিমালায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে—নির্ধারিত নিয়ম লঙ্ঘন করলে পরীক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যার মধ্যে পরীক্ষা বাতিল ও বহিষ্কারের মতো সিদ্ধান্তও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষার পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে এবং নকল বা অনিয়ম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে এই নির্দেশনাগুলো কার্যকর করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরীক্ষার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিটি পরীক্ষার্থীকে এসব নিয়ম মেনে চলতে হবে, অন্যথায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নীতিমালায় উল্লেখিত নির্দেশনা অনুযায়ী, পরীক্ষা কক্ষে কোনো ধরনের অসদাচরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পরীক্ষার সময় এদিক-ওদিক তাকানো, অন্য পরীক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলা বা কোনোভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। একইসঙ্গে, অন্যের উত্তরপত্র দেখে নকল করা বা ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের উত্তরপত্র অন্যকে দেখানো প্রমাণিত হলে উভয়ের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছাড়া, কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের সরবরাহকৃত প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র ছাড়া অন্য কোনো লিখিত বা মুদ্রিত কাগজপত্র সঙ্গে রাখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কেউ যদি এ ধরনের কাগজপত্র সঙ্গে রাখে বা তা ব্যবহার করে নকল করার চেষ্টা করে, তাহলে তা গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এমনকি পরীক্ষার আগে বা চলাকালে ডেস্ক, বেঞ্চ, হাত, পোশাক কিংবা দেয়ালে কোনো কিছু লিখে রাখাও শাস্তিযোগ্য অপরাধের আওতায় পড়বে।
বোর্ড আরও জানিয়েছে, প্রযুক্তি ব্যবহার করে নকলের প্রবণতা রোধে মোবাইল ফোন বা যেকোনো ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পরীক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো তথ্য, বার্তা বা উত্তর যদি এসব ডিভাইসে পাওয়া যায়, তবে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরীক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত করা বা গোলযোগ সৃষ্টি করাও কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কোনো পরীক্ষার্থী যদি পরীক্ষা কক্ষে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, কক্ষ পর্যবেক্ষক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অসম্মান করে, গালাগালি দেয় বা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি শারীরিক আক্রমণ বা অস্ত্র প্রদর্শনের মতো ঘটনা ঘটলে তা গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।
উত্তরপত্র সংক্রান্ত বিষয়েও বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পরীক্ষার্থীকে অবশ্যই নির্ধারিত নিয়মে উত্তরপত্র জমা দিতে হবে। কক্ষ পর্যবেক্ষকের কাছে উত্তরপত্র জমা না দিয়ে পরীক্ষা কক্ষ ত্যাগ করলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। একই উত্তরপত্রে একাধিক হাতের লেখা পাওয়া গেলে বা উত্তরপত্র অদলবদল করার প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছাড়া প্রশ্নপত্র বা সাদা উত্তরপত্র বাইরে পাচার করা, অতিরিক্ত উত্তরপত্র বাইরে থেকে এনে জমা দেওয়া কিংবা অন্য কাউকে দিয়ে নিজের পরীক্ষা দেওয়ানো—এসব কর্মকাণ্ডকে গুরুতর অনিয়ম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। রোল নম্বর পরিবর্তন করা বা পরীক্ষায় অন্যায়ভাবে হস্তক্ষেপ করার ঘটনাও কঠোরভাবে দমন করা হবে।
বোর্ডের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, কোনো পরীক্ষার্থী যদি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে অন্যকে সহযোগিতা করে বা দূষণীয় কাগজপত্র লুকানোর চেষ্টা করে, যেমন তা ফেলে দেওয়া বা ধ্বংস করা, তবে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি উত্তরপত্রে প্রশ্নের সঙ্গে সম্পর্কহীন আপত্তিকর মন্তব্য বা অনুরোধ লিখলেও তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, কেন্দ্র সচিবরা প্রতিটি বহিষ্কৃত পরীক্ষার্থীর তালিকা ও তাদের অপরাধের বিস্তারিত বিবরণ বোর্ডে পাঠাবেন। পরে শৃঙ্খলা কমিটি বিষয়টি পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। এতে পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের কঠোর নির্দেশনা পরীক্ষার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের মধ্যেও সচেতনতা বাড়বে এবং তারা নিয়ম মেনে পরীক্ষায় অংশগ্রহণে উৎসাহিত হবে।
পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে বোর্ডের পরামর্শ—অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি না নিয়ে শুরু থেকেই সকল নিয়ম মেনে চলা উচিত। কারণ, সামান্য অসতর্কতা বা অসদাচরণও পুরো পরীক্ষাজীবনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন পরীক্ষা নিশ্চিত করতে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়