গণমাধ্যম ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি সরকারের অবস্থান স্পষ্ট বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, সরকার সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, মানুষের বাকস্বাধীনতা এবং সামগ্রিক স্বাধীনতায় বিশ্বাসী।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে Newspaper Owners’ Association of Bangladesh (নোয়াব)-এর সদস্যদের সঙ্গে এক বৈঠকে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সংবাদপত্র শিল্পের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী জানান, নোয়াব সদস্যরা বৈঠকে সংবাদপত্র শিল্পের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন এবং প্রধানমন্ত্রী মনোযোগ দিয়ে সেসব কথা শোনেন। এ সময় তিনি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং মুক্ত ও স্বাধীন সংবাদপত্রকে সরকার উৎসাহিত করে বলে উল্লেখ করেন।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী জানান, তিনি নিয়মিত পত্রিকা পড়েন এবং টেলিভিশনের সংবাদ অনুসরণ করেন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরকে গুরুত্ব দিয়ে দেখেন এবং কোনো সমস্যার বিষয় সামনে এলে প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।
দুপুর ২টা ২০ মিনিট থেকে সাড়ে তিনটা পর্যন্ত চলা এই বৈঠক শেষে নোয়াব সদস্যদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। উল্লেখ্য, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর নোয়াব সদস্যদের সঙ্গে এটি ছিল তার প্রথম আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ।
বৈঠকের শুরুতে নোয়াবের সভাপতি ও দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বক্তব্য রাখেন। তিনি সংবাদপত্র শিল্পের বিদ্যমান সমস্যা, বিশেষ করে বিগত সরকারের আমলে বিপুল পরিমাণ সরকারি বিজ্ঞাপনের বকেয়া বিলের বিষয়টি তুলে ধরেন এবং এ সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন।
এছাড়া নোয়াব সদস্যরা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার এবং গ্রেফতারকৃত সাংবাদিকদের জামিনের বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন নোয়াবের সহ-সভাপতি এএসএম শহীদুল্লাহ খান, কোষাধ্যক্ষ আলতামাশ কবির, সদস্য এ কে আজাদ, দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, ইনকিলাব সম্পাদক এএমএম বাহাউদ্দীন, বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, করতোয়া সম্পাদক মোজাম্মেল হক, পূর্বকোণ সম্পাদক ডা. রমীজউদ্দিন চৌধুরী এবং ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস-এর প্রকাশক নাসিম মনজুর।
সরকারের পক্ষ থেকে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তথ্য মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর পলিসি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতেও নির্দিষ্ট সময় পরপর নোয়াবের সঙ্গে এ ধরনের বৈঠক আয়োজন করা হবে, যাতে গণমাধ্যম খাতের সমস্যা সমাধান এবং উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করা যায়।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়