
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পদত্যাগ করতে পারেন—এমন একটি গুঞ্জন বুধবার (২২ জুলাই) সন্ধ্যা থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে রাত পর্যন্ত এ বিষয়ে সরকার, বঙ্গভবন কিংবা সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
গুঞ্জনের সূত্রপাত হয় প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের একটি ফেসবুক পোস্ট থেকে। ওই পোস্টে দাবি করা হয়, স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শিগগিরই পদত্যাগ করতে পারেন। একই সঙ্গে সেখানে উল্লেখ করা হয়, নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপির কোনো শীর্ষ নেতার পরিবর্তে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির নাম বিবেচনায় রয়েছে।
পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। তবে বিএনপির এক জ্যেষ্ঠ নেতা জানিয়েছেন, এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত বা প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি অবগত নন।
এদিকে বঙ্গভবনের একটি সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতির এমন কোনো সিদ্ধান্তের বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। রাষ্ট্রপতি নিজেও এ বিষয়ে কাউকে কিছু জানাননি বলে দাবি করেছে সূত্রটি।
বুধবার রাত পর্যন্ত সরকার বা বঙ্গভবনের প্রেস উইং থেকেও রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি।
উল্লেখ্য, স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য গত মে মাসে যুক্তরাজ্য সফরে যান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। কেমব্রিজের রয়াল প্যাপওয়ার্থ হাসপাতালে তার এনজিওগ্রাম করা হলে হৃদযন্ত্রের একটি ধমনিতে গুরুতর ব্লক ধরা পড়ে। পরে তাৎক্ষণিকভাবে এনজিওপ্লাস্টি করে একটি স্টেন্ট বসানো হয়। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে থাকার পর তিনি দেশে ফেরেন। তখন বঙ্গভবনের প্রেস বিভাগ তার শারীরিক অবস্থাকে ‘স্থিতিশীল ও সন্তোষজনক’ বলে জানিয়েছিল।
এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব ছাড়ার ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “আমি এখান থেকে চলে যেতে চাই।” কেন পদত্যাগের কথা ভাবছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমার ভালো লাগে না।” বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলো থেকে তার ছবি সরিয়ে ফেলা এবং বঙ্গভবনের প্রেস উইং প্রত্যাহার করায় তিনি অপমানবোধ করেছেন বলেও জানান।
এদিকে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রাষ্ট্রপতিকে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেখা গেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ চলাকালে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ কয়েকটি বিরোধী দলের সদস্যরা ওয়াকআউট করেছিলেন।