ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের জমজমাট লড়াইয়ে লিভারপুল এফসি-এর স্বপ্ন ভেঙে দিল প্যারিস সেন্ট-জার্মেইন (পিএসজি)। অ্যানফিল্ডে কোয়ার্টার-ফাইনালের ফিরতি লেগে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে নামলেও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয় স্বাগতিকরা। ২-০ গোলের জয় নিয়ে দুই লেগ মিলিয়ে ৪-০ ব্যবধানে সেমি-ফাইনালে উঠে যায় ফরাসি জায়ান্টরা।
এই ম্যাচের নায়ক ছিলেন উসমান দেম্বেলে। তার জোড়া গোলেই নিশ্চিত হয় পিএসজির জয়। প্রথম লেগে নিজেদের মাঠে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকার সুবিধা নিয়েই আত্মবিশ্বাসীভাবে অ্যানফিল্ডে নামে দলটি, এবং পুরো ম্যাচজুড়ে নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে পিএসজি। বল দখল ও আক্রমণের দিক থেকে এগিয়ে থেকে লিভারপুলকে রক্ষণাত্মক খেলতে বাধ্য করে তারা। প্রথমার্ধে একটি বড় ধাক্কাও খায় দলটি—চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় উগো একিটিকেকে।
অন্যদিকে, লিভারপুল ম্যাচে ফিরে আসার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালায়। বদলি হিসেবে নেমে আক্রমণে গতি আনেন মোহামেদ সালাহ। তার তৈরি করা একটি সুযোগ থেকে শট নেন ভার্জিল ফন ডাইক, তবে দুর্দান্ত রক্ষণে গোললাইন থেকে বল সরিয়ে দলকে বাঁচান পিএসজির অধিনায়ক মার্কিনিয়োস।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের চিত্র কিছুটা বদলায়। একের পর এক আক্রমণে লিভারপুল চেষ্টা চালালেও গোলের দেখা পায়নি তারা। ৬৪তম মিনিটে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার পেনাল্টির দাবি জানালেও ভিএআরের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত বদলে দেন রেফারি।
শেষদিকে তরুণ রিও নুগোমোহা এবং কোডি হাকপো চেষ্টা চালালেও কোনো ফল আসেনি। বরং ৬৭তম মিনিটের পর পাল্টা আক্রমণে ম্যাচের পুরো নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় পিএসজি।
এরপরই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে যায়। দূরপাল্লার এক দুর্দান্ত শটে প্রথম গোল করেন দেম্বেলে। পরে যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে ব্র্যাডলি বার্কোলার পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে ব্যবধান আরও বাড়ান তিনি।
এই জয়ের মাধ্যমে সেমি-ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে পিএসজি। এখন তাদের প্রতিপক্ষ নির্ধারিত হবে বায়ার্ন মিউনিখ এবং রিয়াল মাদ্রিদ-এর মধ্যকার লড়াই থেকে।
সব মিলিয়ে, অ্যানফিল্ডে একতরফা পারফরম্যান্সে লিভারপুলকে হারিয়ে নিজেদের শিরোপা জয়ের দাবিকে আরও জোরালো করল পিএসজি।