
কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় অটোরিকশাচালক সুমন মিয়ার জিজ্ঞাসাবাদে নৃশংসতার বিবরণ উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে শর্টকাট পথে নিয়ে গিয়ে নির্জন এলাকায় তাকে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয় বলে পুলিশের দাবি।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কুমিল্লা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া।
পুলিশ জানায়, গত ৮ অক্টোবর কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর চরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের পাশ থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় হত্যা মামলা হওয়ার পর থানা-পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে চট্টগ্রাম থেকে অটোরিকশাচালক সুমন মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে পুলিশ জানায়, ঘটনার রাতে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকার বাসায় ফেরার জন্য পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডের তিশা বাস কাউন্টারের সামনে থেকে অটোরিকশা ভাড়া করে তাজমিন। চালক প্রথমে ৫০০ টাকা ভাড়া দাবি করলেও পরে ৩০০ টাকায় যাওয়ার বিষয়ে সমঝোতা হয়।
যাত্রাপথে একটি দোকান থেকে ১০০ টাকা দিয়ে চালকের জন্য রুটি ও কলা কিনে আনে তাজমিন। এরপর আবার যাত্রা শুরু হয়। কিছুদূর যাওয়ার পর দ্রুত বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে চালক অটোরিকশাটি ঘুরিয়ে নূরজাহান হোটেলের সামনে দিয়ে চাঁদপুর সড়কের দিকে নিয়ে যান। পরে বিজরা বাজার পেরিয়ে নির্জন এলাকায় গিয়ে অটোরিকশার ইঞ্জিন বন্ধ করে দেন বলে পুলিশের ভাষ্য।
পুলিশের দাবি, অপরিচিত ও নির্জন জায়গায় পৌঁছে বিপদের আশঙ্কা করে অটোরিকশা থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করে তাজমিন। এ সময় সে চিৎকার শুরু করলে চালক গামছা দিয়ে তার গলা পেঁচিয়ে ধরেন। একপর্যায়ে তাজমিন দুর্বল হয়ে পড়লে তাকে ধর্ষণ করা হয়। পরে ধানক্ষেতে নিয়ে মাথায় পা দিয়ে চেপে ধরে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন সুমন।
পুলিশ আরও জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর তাজমিনের ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে একটি আইফোন নিয়ে যান সুমন। ঘটনাস্থলে অটোরিকশাটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রেখে ব্যাগটি ফেলে পালিয়ে যান তিনি। পরে কাঁচিকাটা মসজিদের সামনের একটি পুকুরে গোসল করে অন্য একটি ভাড়ার অটোরিকশায় বাকরাবাদ এলাকায় যান। সেখানে একটি পুকুরপাড়ের জঙ্গলে আইফোনটি লুকিয়ে রেখে চট্টগ্রামে পালিয়ে যান।
সুমনকে গ্রেফতারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাকরাবাদ এলাকার জঙ্গল থেকে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোন এবং ধানক্ষেত থেকে তার ভ্যানিটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত তাজমিনের গ্রামের বাড়ি যশোরে। বাবার চাকরির সুবাদে পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় বসবাস করত সে।
এর আগে গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে কুমিল্লার রেসকোর্স ধানমণ্ডি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বের হয় তাজমিন। পরে বান্ধবীর সঙ্গে কক্সবাজারে যায় সে। বুধবার রাত ২টার দিকে কক্সবাজার থেকে ফিরে কুমিল্লা বিশ্বরোড এলাকার নূরজাহান হোটেলের সামনে নামে এবং সেখান থেকে পরিবারের কাছে লাইভ লোকেশন পাঠায়।
এরপর বৃহস্পতিবার লালমাই উপজেলার জগতপুর উত্তরপাড়ার মানুমুড়া জঙ্গলসংলগ্ন ফসলি জমি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন এবং নিজের দোষ স্বীকার করেছেন। তবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।