দুধকে আমরা অনেকেই স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাবার হিসেবে দেখি। সকাল বা রাত—গরম কিংবা ঠান্ডা দুধ, আবার কখনো কলা বা চকলেট মিশিয়েও দুধ খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে অনেকের। তবে দুধ যতই উপকারী হোক না কেন, কিছু খাবারের সঙ্গে একসঙ্গে খেলে তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
দুধ হজম হতে তুলনামূলক বেশি সময় নেয়। ফলে ভুল খাবারের সঙ্গে দুধ খেলে গ্যাস, বুকজ্বালা, পেট ভার লাগা, বমি বা পাতলা পায়খানার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যাদের ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা রয়েছে, তাদের জন্য বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ।
চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদদের মতে, নিচের এই ৫ ধরনের খাবারের সঙ্গে দুধ একসাথে খাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত—
দুধ ঠান্ডা প্রকৃতির, আর মাছ তুলনামূলকভাবে গরম। এই বিপরীত প্রকৃতির খাবার একসঙ্গে খেলে শরীরের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এতে হজমে সমস্যা ও অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। মাছ খাওয়ার অন্তত ২–৩ ঘণ্টা পর দুধ খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
কলার সঙ্গে দুধের সংমিশ্রণ অনেকের কাছে জনপ্রিয় হলেও এটি হজমে দীর্ঘ সময় নেয়। একসঙ্গে খেলে শরীরে ক্লান্তি, পেট ভার ভাব ও অস্বস্তি হতে পারে। আলাদা সময়ে কলা ও দুধ খেলে দুটির পুষ্টিগুণ ভালোভাবে পাওয়া যায়।
তরমুজ ও বাঙ্গির মতো মূত্রবর্ধক ফলের সঙ্গে দুধ খাওয়া শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এতে বমি, ডায়রিয়া কিংবা পেটের গোলমাল দেখা দিতে পারে। তাই এই ধরনের ফলের সঙ্গে দুধ না খাওয়াই ভালো।
মুলা তুলনামূলক গরম প্রকৃতির। আয়ুর্বেদ মতে, মুলার সঙ্গে দুধ খেলে হজমে সমস্যা ও পেটে জ্বালাপোড়া হতে পারে। মুলা খাওয়ার অন্তত দুই ঘণ্টা পর দুধ খাওয়াই নিরাপদ।
লেবু, কমলা কিংবা ভিটামিন সি সমৃদ্ধ টক ফলের সঙ্গে দুধ খেলে দুধ জমাট বাঁধতে পারে। এতে হজমে বিলম্ব ঘটে এবং গ্যাস, বুকজ্বালা, সর্দি-কাশি বা ত্বকে অ্যালার্জির সমস্যা দেখা দিতে পারে।
দুধ খাওয়ার অন্তত ১–২ ঘণ্টা আগে বা পরে মাছ, টক ফল ও মুলা খাওয়া উচিত।
সকালে খালি পেটে দুধ বা কলা আলাদা আলাদা খেলে হজম ভালো হয়।
ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুদের জন্য ল্যাকটোজ-ফ্রি দুধ বা বিকল্প দুধ বেছে নেওয়া ভালো।
দুধ অত্যন্ত পুষ্টিকর খাবার হলেও ভুল সংমিশ্রণে তা শরীরের ক্ষতি করতে পারে। তাই দুধ খাওয়ার সময় কোন খাবারের সঙ্গে খাচ্ছেন—সেদিকে সচেতন থাকলে হজম ভালো হবে এবং শরীর থাকবে সুস্থ।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়