1. info@www.media71bd.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.media71bd.com : TV :
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৩৭ অপরাহ্ন

৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞায় কর্মহীন ভোলার ৬৫ হাজার জেলে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬

বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশের জলসীমায় মাছ ধরার ওপর ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ায় ভোলার হাজার হাজার জেলে চরম সংকটে পড়েছেন। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া এই নিষেধাজ্ঞার ফলে জেলার প্রায় ৬৫ হাজার জেলে এখন পুরোপুরি কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।

নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগেই অধিকাংশ জেলে তাদের জাল ও ট্রলার নিয়ে ঘাটে ফিরে আসেন। বর্তমানে ভোলার বিভিন্ন নদীঘাট ও উপকূলীয় এলাকায় সারি সারি ট্রলার নোঙর করে রাখা দেখা যাচ্ছে। অনেক জেলে এই অবসরে জাল মেরামতসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক কাজ করছেন, তবে আয়ের কোনো উৎস না থাকায় তাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

স্থানীয় জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই সময়টুকু তাদের জন্য সবচেয়ে কঠিন। অধিকাংশ পরিবারই দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় হঠাৎ করে কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংসার চালানো দুষ্কর হয়ে উঠেছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, পর্যাপ্ত সহায়তা না পেলে তাদের পরিবারকে খাদ্য সংকটে পড়তে হতে পারে।

জেলেদের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞার সময় বিকল্প আয়ের সুযোগ না থাকায় তাদের জীবিকা পুরোপুরি থমকে যায়। তাই তারা দ্রুত সরকারি খাদ্য সহায়তা হিসেবে বরাদ্দকৃত ভিজিএফ চাল নিয়মিত ও সঠিকভাবে বিতরণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে এনজিও থেকে নেওয়া ঋণের কিস্তি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার আহ্বানও জানিয়েছেন তারা, যাতে এই সময়ে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ না পড়ে।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ তুলে ধরেছেন স্থানীয় জেলেরা। তাদের দাবি, নিষেধাজ্ঞার সময় দেশের জেলেরা মাছ ধরতে না পারলেও সীমান্তবর্তী জলসীমায় বিদেশি ট্রলার—বিশেষ করে ভারতীয় জেলেদের—অনুপ্রবেশ ঘটে। এতে দেশের জেলেরা ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়। এ পরিস্থিতিতে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কঠোর নজরদারি ও টহল জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

জেলেদের মতে, যদি এই সময় জলসীমা সুরক্ষিত রাখা না যায়, তাহলে সামুদ্রিক মাছের প্রজনন ও সংরক্ষণ ব্যাহত হবে। ফলে ভবিষ্যতে মাছের উৎপাদনও কমে যেতে পারে, যা দেশের সামগ্রিক মৎস্য খাতের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভোলার সাতটি উপজেলায় মোট নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৬৩ হাজার ৯৫৪ জন। এর মধ্যে ভোলা সদরে ৩ হাজার ৬৯৮ জন, দৌলতখানে ১১ হাজার ৫৫০ জন, বোরহানউদ্দিনে ৭ হাজার ৬৫০ জন, লালমোহনে ৮ হাজার ৮০৪ জন, তজুমুদ্দিনে ৪ হাজার ৫০৬ জন, চরফ্যাশনে ১৭ হাজার ৫৬১ জন এবং মনপুরায় ১০ হাজার ১৮৫ জন জেলে রয়েছেন।

ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সামুদ্রিক মাছের প্রজনন নিশ্চিত করা এবং টেকসই আহরণ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগে বিভিন্ন ঘাটে জেলেদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে প্রচারণাও চালানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সরকারের পক্ষ থেকে জেলেদের জন্য খাদ্য সহায়তার অংশ হিসেবে প্রতিটি জেলে পরিবারকে ৭৭ কেজি করে ভিজিএফ চাল বিতরণ করা হয়েছে। তবে বাস্তব পরিস্থিতিতে এই সহায়তা আরও বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সামগ্রিকভাবে, নিষেধাজ্ঞা সামুদ্রিক সম্পদ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর প্রভাব মোকাবিলায় জেলেদের জন্য পর্যাপ্ত সহায়তা, বিকল্প কর্মসংস্থান এবং জলসীমায় কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা জরুরি—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

More News Of This Category

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়

ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট
error: Content is protected !!