দেশের শিক্ষা প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল এনেছে সরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের জারি করা একাধিক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিভিন্ন কলেজ, শিক্ষা বোর্ড ও অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ব্যাপক বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে ওএসডি (অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি) করা হয়েছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) এ-সংক্রান্ত পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) বি. এম. আব্দুল হান্নানকে ওএসডি করা হয়েছে। তাকে সরকারি তিতুমীর কলেজে সংযুক্ত করা হয়েছে। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন ফরিদপুরের সরকারি আইনউদ্দিন কলেজের অধ্যক্ষ মো. নাজমুল হক, যিনি এখন মাউশির পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা মাউশি দীর্ঘদিন ধরে কার্যত নেতৃত্ব সংকটে রয়েছে। প্রায় ছয় মাস ধরে সেখানে নিয়মিত মহাপরিচালক নেই। এর মধ্যে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাকেও সরিয়ে দেওয়ায় প্রশাসনিক কার্যক্রমে ধীরগতি তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
অন্যদিকে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে (এনসিটিবি)ও দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী চেয়ারম্যানের অভাব রয়েছে। ২০২৫ সালের মার্চ থেকে সংস্থাটিতে নিয়মিত চেয়ারম্যান নেই। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক রবিউল কবীর চৌধুরী গত বছরের ৬ নভেম্বর অবসর-উত্তর ছুটিতে গেলে পরবর্তীতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক অতিরিক্ত সচিবকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এনসিটিবিতে চলমান শুদ্ধি অভিযানের অংশ হিসেবে আলোচিত সদস্য ড. রিয়াদ চৌধুরীকে ওএসডি করে কুমিল্লা সরকারি কলেজে সংযুক্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বই ছাপার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ ছিল। তার স্থলে নতুন সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক আবু নাসের টুকু, যিনি পূর্বে এনসিটিবির উৎপাদন নিয়ন্ত্রক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
অন্য প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অধ্যাপক মোহাম্মদ জহিরুল হক স্বপনকে চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। বর্তমান সচিব ড. এ. কে. এম. সামছু উদ্দিন আজাদকে চট্টগ্রাম সরকারি কলেজে অধ্যাপক (রসায়ন) হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
এছাড়া সহকারী অধ্যাপক আবু মুসা মো. তারেককে সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা থেকে সিলেট শিক্ষাবোর্ডে বিদ্যালয় পরিদর্শক হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। অপরদিকে সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মঈনুল ইসলামকে একই পদ থেকে সরিয়ে ওএসডি করে হবিগঞ্জের বৃন্দাবন সরকারি কলেজে সংযুক্ত করা হয়েছে।
বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যাপক মো. আনোয়ার হোসেনকে মাউশির পরিচালক (প্রশিক্ষণ) হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে। এনটিআরসিএর উপপরিচালক অধ্যাপক দীনা পারভিনকে ওএসডি করে মাউশিতে সংযুক্ত করা হয়েছে (পিআরএল সুবিধার্থে)।
অন্যদিকে অধ্যাপক মো. জাফর আহম্মদকে ওএসডি রেখে সরকারি তিতুমীর কলেজে সংযুক্ত করা হয়েছে। সহযোগী অধ্যাপক মোসাম্মৎ কামরুন নাহারকে হাজারীবাগ সরকারি কলেজ থেকে ঢাকা কলেজে বদলি করা হয়েছে। মাদারীপুর সরকারি কলেজের অধ্যাপক গৌর কুমার চৌধুরীকে খুলনার সরকারি ব্রজলাল কলেজে স্থানান্তর করা হয়েছে।
গবেষণা কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত সহযোগী অধ্যাপক মোছা. আয়শা সিদ্দিকা মৌসুমীকে ওএসডি করে ঢাকা উদ্যান সরকারি কলেজে সংযুক্ত করা হয়েছে। একইভাবে অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রেজাউল হাসানকে ওএসডি রেখে সবুজবাগ সরকারি মহাবিদ্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
আরেকটি প্রজ্ঞাপনে অধ্যাপক মো. বোরহান উদ্দীনকে দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। টাঙ্গাইলের সা’দত সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক শামীম আল মামুনকে মাউশির উপপরিচালক (প্রশিক্ষণ) করা হয়েছে। এছাড়া সোনাগাজী সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক খন্দকার জাহিদুল হককে কবি নজরুল সরকারি কলেজে বদলি করা হয়েছে। অধ্যাপক রাবেয়া মোমেনকেও ওএসডি রেখে বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজে সংযুক্ত করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবমুক্ত না হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের একই দিনের অপরাহ্ণে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত হিসেবে গণ্য করা হবে।
এছাড়া কর্মকর্তাদের নিজ নিজ পিডিএস-এ লগইন করে অবমুক্তি ও যোগদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়