
বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরি নির্ধারণে অবিলম্বে মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা। একই সঙ্গে শ্রমিক ছাঁটাই, নির্যাতন ও হয়রানি বন্ধ এবং দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারেরও দাবি জানান তারা।
গতকাল গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস ট্রাফিক মোড় এলাকায় ‘তৃণমূল পর্যায়ে ঐক্যবদ্ধ শ্রমিক সংগঠন, গাজীপুর’-এর উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলে বক্তারা এসব দাবি জানান। এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন পোশাক কারখানার শত শত শ্রমিক ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে অংশ নেন।
সমাবেশে সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন প্রবীণ শ্রমিক নেতা শাহজাহান সিরাজ।
সভাপতির বক্তব্যে শাহজাহান সিরাজ বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম প্রতিদিন বাড়ছে। অথচ তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকরা যে মজুরি পাচ্ছেন, তা দিয়ে পরিবার নিয়ে জীবনযাপন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। শ্রমিকদের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করে ন্যায়সংগত ও মানবিক মজুরি নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘আর কোনো বিলম্ব সহ্য করা হবে না। দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি পোশাক শ্রমিকদের বাঁচিয়ে রাখা শিল্প ও দেশের স্বার্থেই জরুরি। শ্রমিক বাঁচলে শিল্প বাঁচবে, শিল্প বাঁচলে দেশ এগোবে।’
সমাবেশে অন্যান্য শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করেন, ন্যায্য দাবির কথা বললেই অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিকদের ছাঁটাই, নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হতে হয়। ট্রেড ইউনিয়ন চর্চা ও শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া দমনে কোথাও কোথাও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
বক্তারা অবিলম্বে হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং কোনো শ্রমিককে বিনা কারণে ছাঁটাই না করার জন্য মালিকপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
সমাবেশে শ্রমিকদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল—‘নয়া মজুরি নিশ্চিত করো’, ‘ছাঁটাই, নির্যাতন, হয়রানিসহ সকল প্রকার মামলা প্রত্যাহার করতে হবে’, ‘মজুরি বোর্ড গঠন করে শ্রমিক বাঁচাও, শিল্প বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ এবং ‘আর কোনো বিলম্ব নয়, গার্মেন্টস সেক্টরের জন্য মজুরি বোর্ড গঠন চাই’।
সমাবেশ শেষে ভোগড়া বাইপাস এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ প্রদক্ষিণ করে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়।
শ্রমিক নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অবিলম্বে মজুরি বোর্ড গঠন ও শ্রমিক হয়রানি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে তৃণমূল পর্যায়ের শ্রমিক সংগঠনগুলোকে সঙ্গে নিয়ে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এ সময় বিভিন্ন তৈরি পোশাক কারখানার সাধারণ শ্রমিক ছাড়াও গাজীপুরের স্থানীয় সামাজিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মী ও প্রতিনিধিরা কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে অংশ নেন।