1. dsdc.mostafiz@gmail.com : mrahman :
  2. live@www.media71bd.com : Media 71 : Media 71
  3. info@www.media71bd.com : Media 71 :
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৩ অপরাহ্ন
সর্বশেষঃ
দুর্গাপূজার নবমীতে তিন বিভাগে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী পর্তুগাল দল ছেড়ে যাওয়ায় রোনালদোর জরিমানা, ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা কক্সবাজারে দিনের বেলায় সড়কে ডাকাতি, জিম্মি করে লুট শতাধিক যাত্রীর টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি, সালমান খানের বাসভবনে নিরাপত্তা জোরদার ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের প্রসারে বিশেষ অধ্যাদেশ জারি বেনামে বিমা পলিসি খোলা নিষিদ্ধ, ১০ লাখ টাকার নগদ লেনদেনে প্রতিবেদন বাধ্যতামূলক পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে আজ রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম সফরে প্রধানমন্ত্রী গুলিস্তানে বোমাসদৃশ বস্তু ঘিরে আতঙ্ক, ভেতরে মিলল কাপড় ও পচা ফল দুর্গাপূজার ছুটিতে টানা পাঁচ দিন বন্ধ ব্যাংক ও শেয়ারবাজার নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ৯, আহত ১৫

প্রধান সড়ক থেকে অটোরিকশা সরানোর সিদ্ধান্ত কেন বাস্তবায়ন হচ্ছে না?

মামুন, বিশেষ প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬

রাজধানীর প্রধান সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণের আলোচনা দীর্ঘদিনের। যানজট, সড়ক দুর্ঘটনা, উল্টো পথে চলাচল, ট্রাফিক আইন অমান্য এবং যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামার মতো নানা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ, সিটি করপোরেশন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ে একাধিকবার এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নীতিগতভাবে প্রধান সড়ক থেকে এসব যান সরানোর বিষয়ে সম্মতিও রয়েছে।

তবে বাস্তবে রাজধানীর ব্যস্ততম সড়কগুলোতে এখনও অবাধে চলাচল করছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। এতে প্রশ্ন উঠেছে—নীতিগত সিদ্ধান্ত থাকলেও বাস্তবায়ন কেন সম্ভব হচ্ছে না?

চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় সরকার

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ ও সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, সম্প্রতি সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রধান সড়কে অটোরিকশা চলাচল বন্ধ বা সীমিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সরকারি নির্দেশনা জারি হয়নি।

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে অনুমোদন মিললে প্রথম ধাপে রাজধানীর প্রধান সড়কগুলো থেকে অটোরিকশা সরিয়ে দেওয়া হবে। পরে পর্যায়ক্রমে পুরো রাজধানীতে এসব যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা রয়েছে।

কত অটোরিকশা চলছে, জানে না কেউ

দেশে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সঠিক সংখ্যা সরকারের কাছেও নেই। তবে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর এক সমীক্ষায় দেশে প্রায় ৬০ লাখ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচলের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এর প্রায় ৯০ শতাংশ দেশেই তৈরি হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

খাত-সংশ্লিষ্টদের ধারণা, শুধু রাজধানী ঢাকাতেই ১৫ থেকে ২০ লাখ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে।

বাস্তবায়নে প্রধান বাধাগুলো

ট্রাফিক বিভাগ বলছে, প্রধান সড়কে ধীরগতির অটোরিকশা চলাচলের কারণে যানজট বাড়ছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে এসব যান নিয়ন্ত্রণে কয়েকটি বড় প্রতিবন্ধকতা রয়েছে।

সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—

  • চূড়ান্ত সরকারি নির্দেশনার অভাব
  • নিবন্ধন ও পরিচালনার সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকা
  • ট্রাফিক পুলিশের জনবল সংকট
  • জব্দ করা যান রাখার পর্যাপ্ত ডাম্পিং সুবিধার অভাব
  • বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি
  • কিছু মালিক ও গ্যারেজ পরিচালকের রাজনৈতিক প্রভাব

ট্রাফিক কর্মকর্তাদের মতে, নিয়মিত অভিযান চালিয়েও সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হচ্ছে না। এজন্য সমন্বিত প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।

সিটি করপোরেশনের অবস্থান

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, অটোরিকশার কারণে সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। অনেক চালক উল্টো পথে চলাচল করেন এবং হঠাৎ রাস্তার মাঝখানে যাত্রী ওঠানামা করান।

তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলেও সিটি করপোরেশন এখনও কোনো লিখিত নির্দেশনা পায়নি। এছাড়া অটোরিকশাগুলো নিবন্ধনবিহীন হওয়ায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণেও জটিলতা রয়েছে।

ডিএমপির বক্তব্য

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিসুর রহমান জানান, সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

তিনি বলেন, সিদ্ধান্ত হলে প্রধান সড়ক থেকে অটোরিকশা সরিয়ে দেওয়া হবে। বর্তমানে ট্রাফিক বিভাগ প্রতিদিন অভিযান পরিচালনা করছে এবং দৈনিক পাঁচ শতাধিক অটোরিকশা জব্দ করে ডাম্পিংয়ে পাঠানো হচ্ছে।

তবে তিনি স্বীকার করেন, জনবল ও ডাম্পিং সুবিধার সীমাবদ্ধতার কারণে শতভাগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছে না।

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান মনে করেন, শুধু প্রধান সড়কে অটোরিকশা নিষিদ্ধ করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না।

তার মতে, এসব যানকে নিবন্ধন, লাইসেন্স, কারিগরি মানদণ্ড এবং জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। চালক ও যান শনাক্তে কিউআর কোড বা ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থাও চালু করা যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও অনেক অটোরিকশা এখনও মহাসড়ক ও প্রধান সড়কে চলাচল করছে। তাই সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।

বিদ্যুৎ চুরি ও অবৈধ চার্জিংও উদ্বেগ

ড. হাদিউজ্জামানের মতে, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অবৈধ চার্জিংয়ের কারণে জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপরও অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে অবৈধ সংযোগ ও বিদ্যুৎ চুরির মাধ্যমে এসব যান চার্জ দেওয়া হয়, ফলে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে এবং জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ বাড়ছে।

করণীয় কী?

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কয়েকটি পদক্ষেপ জরুরি—

  • নতুন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা রাস্তায় নামানো বন্ধ করা।
  • অবৈধ উৎপাদনকারী ওয়ার্কশপ ও যন্ত্রাংশ সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করা।
  • অবৈধ চার্জিং স্টেশন ও বিদ্যুৎ চুরির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।
  • বিদ্যমান অটোরিকশাগুলোকে ধাপে ধাপে নিবন্ধন, চালকের লাইসেন্স ও কারিগরি পরীক্ষার আওতায় আনা।
  • সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বয়ে একটি কার্যকর নীতিমালা বাস্তবায়ন করা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সমন্বিত নীতিমালা ও কার্যকর বাস্তবায়ন ছাড়া রাজধানীর প্রধান সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল বন্ধ করা কঠিন হবে। একই সঙ্গে যানজট ও দুর্ঘটনা কমাতেও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© ২০২৬- প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট

You cannot copy content of this page