
বাংলাদেশ, নেপাল ও ফ্রান্সের মতো দেশে অস্থিতিশীলতা ও সরকারবিরোধী আন্দোলনের উদাহরণ টেনে ভারতে ‘শাসন পরিবর্তনের’ যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভগবত। তাঁর দাবি, আন্দোলনের মাধ্যমে নয়, বরং সমাজের ভেতর থেকেই সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভারতের নাগপুরে বিজয়া দশমী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে চলমান রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই ভগবতের এ বক্তব্য সামনে এলো। ওই আন্দোলনে কিছু বিক্ষোভকারী সরকার পরিবর্তনেরও দাবি জানাচ্ছেন।
ভগবত বলেন, আন্দোলন করলেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয় না। সমস্যার সমাধান সমাজের ভেতর থেকেই খুঁজতে হবে। বাংলাদেশ, নেপাল ও ফ্রান্সের মতো দেশে অস্থিতিশীলতার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি ভারতে একই ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টির প্রচেষ্টার বিষয়ে সতর্ক করেন।
আরএসএস প্রধানের ভাষ্য, ভারত অন্য দেশগুলোর মতো একই পথে হাঁটবে না। দেশের সংকল্প ও জনগণের সম্মিলিত শক্তির মাধ্যমে ভারত এগিয়ে যাবে। তাঁর দাবি, ভারতে শাসন পরিবর্তনের প্রচেষ্টা সফল হবে না এবং দেশকে ভেঙে ফেলার চেষ্টাও ব্যর্থ হবে।
ভগবত আরও বলেন, গত কয়েক দশকে নীতিনির্ধারণের মাধ্যমে ভারত যে অগ্রগতি অর্জন করেছে, তা বাধাগ্রস্ত করতে কিছু শক্তি তৎপর। তাঁর অভিযোগ, এসব শক্তি ভারত ও আরএসএসকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে।
রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কিংবা উসকানি দিয়ে আন্দোলন সংগঠিত করার পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করে তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড উত্তেজনা, নৈরাজ্য ও জনজীবনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে।
ভারতের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করতে চায়—এমন শক্তি সম্পর্কে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে ভগবত বলেন, ভারত উন্নতির পথে এগিয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন মহল দেশটির অগ্রগতি থামিয়ে দিতে চায়।
তিনি আরও বলেন, পশ্চিম দিক থেকে এমন একটি ঝড় ধেয়ে আসছে, যা সংস্কৃতি, ব্যবস্থা ও নিরাপত্তাকে ঘৃণা করে এবং সবকিছু ধ্বংস করতে চায়।
বক্তব্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সরকারবিরোধী আন্দোলনের মুখে রাজনৈতিক পরিবর্তনের শিকার হওয়া কয়েকটি দেশের উদাহরণ তুলে ধরেন ভগবত।
২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে ব্যাপক ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। অন্যদিকে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে নেপালে জেন-জি আন্দোলনের জেরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির সরকারের পতন হয়।
এ ছাড়া ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় ও জনপরিষেবার অবনতি নিয়ে অসন্তোষের জেরে বিক্ষোভের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন তিনি। ওই বিক্ষোভের ঘটনায় এক হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভগবতের অভিযোগ, ভারতেও এমন কিছু মানুষ রয়েছেন, যাঁরা এসব শক্তির মতাদর্শে বিশ্বাস করেন। তাঁদের মধ্যে বুদ্ধির অভাব ও ক্ষমতার প্রতি লোভ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সবশেষে সমাজকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে আরএসএস প্রধান বলেন, আন্দোলনের মাধ্যমে অস্থিতিশীলতা তৈরির পরিবর্তে সমাজের ভেতর থেকেই সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করা প্রয়োজন।
সূত্র: ফার্স্টপোস্ট