1. dsdc.mostafiz@gmail.com : mrahman :
  2. live@www.media71bd.com : Media 71 : Media 71
  3. info@www.media71bd.com : Media 71 :
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৫ অপরাহ্ন
সর্বশেষঃ
জাপান সফরে বাংলাদেশের সঙ্গে চারটির বেশি সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রত্যাশা সেনবাগে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন, বসতঘরসহ ৪ লাখ টাকার ক্ষতি পশ্চিম তীরে সর্বাত্মক অবরোধের ঘোষণা ইসরায়েলের, বাড়ছে বাস্তুচ্যুতির শঙ্কা ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বাস খাদে, নিহত ৩, আহত ১৬ মগবাজারে আসিফ আকবরের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় ১৪১ ফ্লাইট বাতিল, দুর্ভোগে ২১ হাজারের বেশি যাত্রী ফ্রান্সে সহিংসতার আশঙ্কা, ৭০ হাজার পুলিশ মোতায়েনের সিদ্ধান্ত ভারতের স্টেট ব্যাংকের গ্রাহকদের তথ্য ফাঁসের দাবি, উদ্বেগে কোটি গ্রাহক চীনে এআই দিয়ে নির্মিত প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা, বক্স অফিস নিয়ে অনিশ্চয়তা পিএইচপির নিরাপত্তাত্রুটিতে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ, বন্ধ বহু ওয়েবসাইট

পিএইচপির নিরাপত্তাত্রুটিতে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ, বন্ধ বহু ওয়েবসাইট

টেক ডেস্ক
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬

বিশ্বজুড়ে বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপিতে একাধিক নিরাপত্তাত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর ওয়েবসাইট ও সার্ভার সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। ঝুঁকি এড়াতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সরকারি সংস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। নিরাপত্তাত্রুটিগুলোর সমাধান প্রকাশের পর ব্যবহারকারীদের দ্রুত সফটওয়্যার হালনাগাদ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বুধবার পিএইচপি উন্নয়নকারীরা সফটওয়্যারটির দীর্ঘদিনের কিছু নিরাপত্তাত্রুটির সমাধান প্রকাশ করেন। এসব ত্রুটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তায় শনাক্ত করা হয়েছে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ত্রুটিগুলোর বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আসায় সেগুলো কাজে লাগিয়ে সাইবার হামলার ঝুঁকি বাড়তে পারে। ব্যবহারকারীরা সিস্টেম হালনাগাদ করার আগেই আক্রমণকারীরা দুর্বল সার্ভারগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে।

সাইবার নিরাপত্তা গবেষণা ও ইনসিডেন্ট রেসপন্স প্রতিষ্ঠান টিএলপি: ব্ল্যাকের সহপ্রতিষ্ঠাতা কস্টিন রাইউ বলেন, এআই সাইবার হামলার সুযোগ নেওয়ার প্রতিযোগিতাকে আরও ত্বরান্বিত করছে। তাঁর আশঙ্কা, পরবর্তী পর্যায়ে ইন্টারনেটে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ ওয়েব সার্ভারগুলোতে ব্যাপকভাবে অনুপ্রবেশ ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হতে পারে।

পিএইচপি একটি বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা, যা ওয়েবসাইটের বড় একটি অংশ পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়। ওয়ার্ডপ্রেস, ড্রুপাল, জুমলা ও ম্যাজেন্টোর মতো জনপ্রিয় ওয়েব প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে। ফলে পিএইচপিতে গুরুতর নিরাপত্তাত্রুটি দেখা দিলে বিপুলসংখ্যক ওয়েবসাইট ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

ড্রুপাল অ্যাসোসিয়েশনের অন্তর্বর্তী প্রধান নির্বাহী টিফানি ফারিসের ভাষ্য অনুযায়ী, গত দুই দশকে প্রকাশিত পিএইচপির বিভিন্ন সংস্করণ ব্যবহারকারী সার্ভারগুলো এ সমস্যার কারণে ঝুঁকিতে পড়তে পারে। বিশ্বজুড়ে সাইবার নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ব্যবহারকারীদের দ্রুত সফটওয়্যার হালনাগাদ অথবা প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত ওয়েবসাইট বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছে।

ইন্টারনেট ইন্টেলিজেন্স প্রতিষ্ঠান সেনসিসের তথ্য অনুযায়ী, ইন্টারনেটে সক্রিয় ২৬ লাখ হোস্টের মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ এমন পিএইচপি সংস্করণ ব্যবহার করছে, যেগুলোর জন্য তখনও সমাধান পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঝুঁকি মোকাবিলায় নেদারল্যান্ডসের একটি সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা নিজেদের ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়। অনলাইন বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়ার পরিচালকেরাও নিরাপত্তা হালনাগাদ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত কিছু সিস্টেম বন্ধ রাখার কথা জানান। একই কারণে ইন্টারনেট আর্কাইভও স্বল্প সময়ের জন্য তাদের কিছু সেবা বন্ধ রেখেছিল।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ওয়েবসাইটের মালিকদের নিজেদের সাইটে পিএইচপি ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করে নিরাপত্তা হালনাগাদের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান। নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রীও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

দুটি সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের পৃথক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআইয়ের সহায়তায় পিএইচপির এসব নিরাপত্তাত্রুটি শনাক্ত করা হয়। ‘ক্যালিফ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান জানায়, তারা গত ১ আগস্ট একটি বৃহৎ ভাষা মডেল ব্যবহার করে ত্রুটিগুলো শনাক্ত করে এবং এরপর থেকে সমাধানের বিষয়ে কাজ করছিল।

অ্যালফাবেটের মালিকানাধীন সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ‘উইজ’ জানায়, তাদের স্বয়ংক্রিয় এআইভিত্তিক নিরাপত্তাত্রুটি শনাক্তকরণ সরঞ্জাম ‘উইজ অ্যাটলাস’ এবং গুগল ও ওপেনএআইয়ের এআই মডেলের সহায়তায় ত্রুটিগুলো শনাক্ত করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ত্রুটিগুলো এক দশকেরও বেশি সময় ধরে পিএইচপির কোডে লুকিয়ে ছিল। আগে এগুলো শনাক্ত করা ও কাজে লাগানো মানুষের জন্য অত্যন্ত জটিল ছিল। কিন্তু এআইয়ের অগ্রগতিতে এ ধরনের কাজ আরও সহজ ও দ্রুত হয়ে উঠছে।

ক্যালিফ ও উইজ জানিয়েছে, ত্রুটি শনাক্ত ও সমাধানের বিষয়ে তারা পরস্পরের পাশাপাশি পিএইচপি উন্নয়ন দল এবং ওপেনএআইয়ের সঙ্গে সমন্বয় করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, তারা গত শুক্রবার এ নিরাপত্তা সমস্যার বিষয়ে জানতে পারে। অন্যদিকে, আমাজনের নিরাপত্তা প্রধান সিজে মোজেস জানান, ত্রুটিগুলোর বিস্তারিত প্রকাশের চার দিন আগে, ১৭ অক্টোবর, তাঁদের একটি ‘হানিপট’ বা প্রতারণামূলক নজরদারি ব্যবস্থায় সেগুলো কাজে লাগিয়ে হামলার চেষ্টা শনাক্ত করা হয়।

মোজেসের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার চেষ্টাটি একটি বেনামি ইন্টারনেট ঠিকানা থেকে এসেছিল। তবে আক্রমণকারী কীভাবে প্রকাশ্যে তথ্য আসার আগেই ত্রুটিগুলোর বিষয়ে জানতে পেরেছিল, তা স্পষ্ট নয়। তথ্য প্রকাশের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আগেও একাধিক হামলার চেষ্টা শনাক্ত করা হয়েছিল।

আমাজন জানিয়েছে, এসব চেষ্টা বাস্তব ওয়েবসাইটে সফল হতো কি না, তা নিশ্চিত নয়। তবে নিরাপত্তাত্রুটিগুলো বাস্তবে অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি করেছে।

পিএইচপি একটি মুক্ত উৎসের প্রোগ্রামিং ভাষা, যা ওয়েবসাইটের বিভিন্ন উপাদান তৈরি ও পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়। কোনো ব্যবহারকারী ওয়েবপেজ খুললে পিএইচপি চালিত সার্ভার প্রয়োজনীয় তথ্য একত্র করে ব্রাউজারে পাঠাতে পারে। ওয়েব প্রযুক্তি পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ডব্লিউ৩টেকসের তথ্য অনুযায়ী, যেসব ওয়েবসাইটের প্রোগ্রামিং ভাষা শনাক্ত করা যায়, সেগুলোর প্রায় ৭৫ শতাংশ পিএইচপি ব্যবহার করে।

এ ব্যাপক ব্যবহারের কারণেই নিরাপত্তাত্রুটিগুলো নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কিংস কলেজ লন্ডনের ভিজিটিং সিনিয়র রিসার্চ ফেলো লুকাস ওলেজনিকের মতে, এআইয়ের সহায়তায় সাইবার হামলার সক্ষমতা দ্রুত বাড়ছে। নিরাপত্তা হালনাগাদ না করা সার্ভারগুলোতে এর ফলে গুরুতর ক্ষতি হতে পারে।

ওয়ার্ডপ্রেস ডটকম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান অটোমেটিক জানিয়েছে, তাদের হোস্ট করা সেবা এবং টাম্বলারের ব্যবহারকারীরা এ ত্রুটির ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত। তবে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পিএইচপি চালিত ওয়েবসাইট পরিচালনাকারী ব্যক্তি ও ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো বেশি ঝুঁকিতে থাকতে পারে। বিশেষ করে শেয়ার্ড হোস্টিং ব্যবহারকারীদের জন্য দ্রুত নিরাপত্তা হালনাগাদ করা কঠিন হতে পারে, কারণ তাঁরা সাধারণত মূল সার্ভারের নিয়ন্ত্রণ পান না।

নেদারল্যান্ডসে একাধিক সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাদের ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রোটারডাম বন্দর, সরকারি পোর্টাল ওভারহেড ডট এনএল, দেশটির জাতীয় ফুটবল সংস্থা কেএনভিবি, পাঁচটি প্রধান রাজনৈতিক দলের ওয়েবসাইট এবং কয়েকটি হাসপাতালের ওয়েবসাইট রয়েছে।

ডেনমার্কের পৌর আইটি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘কমবিট’ জানিয়েছে, নিরাপত্তাঝুঁকি মোকাবিলায় জাতীয় বিদ্যালয় যোগাযোগ প্ল্যাটফর্মসহ একাধিক সেবা বন্ধ রাখা হয়েছে।

ফিনল্যান্ডে রাষ্ট্রীয় আইটি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘ভালতোরি’ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সরকারের জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত নেটওয়ার্ক সেবাগুলো বন্ধ করে দেয়। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও তাদের ওয়েবসাইটগুলোকে প্রতিরোধমূলক রক্ষণাবেক্ষণের আওতায় আনার কথা জানিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ঘটনার মধ্য দিয়ে ওয়েবসাইট পরিচালনাকারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা সামনে এসেছে—সফটওয়্যারের নিরাপত্তা হালনাগাদ নিয়মিত করা, সার্ভারের দুর্বলতা দ্রুত শনাক্ত করা এবং প্রয়োজন হলে ঝুঁকিপূর্ণ সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা এখন আগের চেয়ে বেশি জরুরি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© ২০২৬- প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট

You cannot copy content of this page