
ফ্রান্সে সাম্প্রতিক বিক্ষোভের সময় সহিংসতা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার পর দেশজুড়ে নতুন করে অস্থিরতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শনিবার (২৪ অক্টোবর) দেশজুড়ে ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য ও বিশেষায়িত নিরাপত্তা ইউনিট মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনিয়েজ এ তথ্য জানান। তিনি সাম্প্রতিক সহিংসতা ও লুটপাটের জন্য উগ্র-বামপন্থি গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেন।
প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ, প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু এবং ঊর্ধ্বতন নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের নুনিয়েজ বলেন, দাঙ্গা, লুটপাট ও সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, উগ্র-বামপন্থি গোষ্ঠীগুলোর কাছ থেকে অনলাইনে এমন কিছু আহ্বান পাওয়া গেছে, যেখানে সহিংস কর্মকাণ্ডে উৎসাহ দেওয়া এবং সরকারি ভবনগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার কথা বলা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রাখা হবে বলেও জানান তিনি।
ফ্রান্সের ক্রেতেই শহরে গত মাসে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শুরু হয়। শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, শিক্ষকদের অনুপস্থিতি, দীর্ঘ স্কুল সময়, শিক্ষা উপকরণের ঘাটতি এবং জরাজীর্ণ অবকাঠামোর প্রতিবাদে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। পুলিশের বলপ্রয়োগের ঘটনায় বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়ে ওঠে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে শ্রমিক ইউনিয়ন ও অন্যান্য গোষ্ঠীর প্রতিবাদ যুক্ত হয়। গত ১৭ অক্টোবরের আন্দোলনে সহিংসতা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়।
নতুন করে একই ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে আগাম নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, সম্ভাব্য সহিংসতা মোকাবিলায় পুলিশ সতর্ক থাকবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
তবে নতুন করে কতটি স্থানে বিক্ষোভ হতে পারে কিংবা সম্ভাব্য সহিংসতার মাত্রা কতটা হতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। ফ্রান্সে চলমান আন্দোলন ও সরকারের নিরাপত্তাব্যবস্থা আগামী দিনগুলোতে দেশটির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।