
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ‘দখলদার’ হিসেবে অবস্থান নিতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি এখন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে এবং সেখান থেকে ইতিহাসের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি তেল উত্তোলন করছে ওয়াশিংটন।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ফ্লোরিডার একটি নাসা স্থাপনায় বক্তব্য দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন ট্রাম্প।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের তুলনা করে ট্রাম্প বলেন, গত অক্টোবর মাসে রাশিয়া ও ইউক্রেনের লড়াইয়ে ২৫ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। তাঁর ভাষায়, ‘ওটাকেই যুদ্ধ বলে।’
অন্যদিকে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের নবম মাস চললেও গত কয়েক মাসে কেউ আহত হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। এ পরিস্থিতিকে যুদ্ধ বলতে নারাজ ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা হয়তো শুধু দখলদার। আমরা দখলদার হতে পারি।’
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়েও আবারও নিজেদের কর্তৃত্বের দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি আমাদের নিয়ন্ত্রণে। ইতিহাসে এই প্রণালি থেকে এখন আমরা সবচেয়ে বেশি তেল উত্তোলন করছি।’
এদিকে, শুক্রবার ইরানের কেশম দ্বীপের কাছে মার্কিন বাহিনীর হামলার খবর নিয়ে জানতে চাইলে প্রথমে মন্তব্য করতে চাননি ট্রাম্প। পরে সীমিত সামরিক অভিযান চালানোর কথা স্বীকার করেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, ‘এ বিষয়ে কথা বলতে চাই না। আমরা ছোটখাটো হামলা চালাই।’ তাঁর দাবি, ইরানের বাহিনী সেখানে একটি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা তৈরি করেছিল, যা যুক্তরাষ্ট্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই ধ্বংস করে দেয়।
এর কয়েক দিন আগেও কেশম দ্বীপে ইরানের একটি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় হামলার কথা নিশ্চিত করেছিলেন ট্রাম্প। তখনও তিনি অভিযানটিকে বড় ধরনের যুদ্ধে ফিরে যাওয়া নয়, বরং সীমিত হামলা হিসেবে বর্ণনা করেন।
তবে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। তেহরানের বক্তব্য, কৌশলগত এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতেই রয়েছে। নিজেদের শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রণালিটি খুলে দেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছে দেশটি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এপ্রিলে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়। এরপর জুনে শান্তিচুক্তির পথ তৈরির লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হলেও আলোচনায় এখনো চূড়ান্ত সমাধান আসেনি।