
শনিবার (৬ জুন) রাজধানীতে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে শিশু নির্যাতন বৃদ্ধি ও করণীয়’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে নিজের সন্তানের হত্যার সুষ্ঠু বিচার এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।
তিনি বলেন, “আমি আমার বাচ্চাকে হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই। বাংলাদেশের আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করি এবং সেই শাস্তি দ্রুত কার্যকর হতে দেখতে চাই। একজন বাবা হিসেবে এটাই আমার একমাত্র চাওয়া।”
তিনি আরও বলেন, বিচার প্রক্রিয়ায় কিছুটা অগ্রগতি দেখে তিনি আশাবাদী হয়েছেন। তার ভাষায়, সরকার দ্রুত বিচার শেষ করার যে আশ্বাস দিয়েছিল, তার প্রতিফলন তিনি দেখতে পেয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনের রায় দেশের ইতিহাসে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
আব্দুল হান্নান মোল্লা বলেন, “এক ফ্ল্যাটের এক দরজা থেকে আরেক দরজার দূরত্ব মাত্র তিন ফুট। এই তিন ফুটের মধ্যেও যদি আমরা একটি শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারি, তাহলে শুধু সরকারকে দায়ী করা যাবে না। পরিবার, প্রতিবেশী ও সমাজকে দায়িত্ব নিতে হবে।”
তিনি আরও প্রশ্ন রাখেন, একজন শিশুর এমন পরিণতির দায় কে নেবে—পরিবার, সমাজ নাকি রাষ্ট্র। তিনি বলেন, শুধু আলোচনা নয়, বাস্তব পদক্ষেপই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি জানান, ঘটনার পর তার স্ত্রী গভীর মানসিক ট্রমার মধ্যে রয়েছেন এবং পরিবার বর্তমানে চরম মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। পরিবারের আরেক সন্তানকেও নিয়ে তারা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
বক্তব্যের শেষে তিনি বিচারক, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং বিচার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত সবাইকে ধন্যবাদ জানান এবং নিজের পরিবারের জন্য দোয়া কামনা করেন।
উল্লেখ্য, নিপীড়িত নারী ও শিশুদের আইনি ও স্বাস্থ্য সহায়তা সেলের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই গোলটেবিল বৈঠকে আইনজীবী, চিকিৎসক, শিক্ষক, সাংবাদিক ও সমাজকর্মীরা অংশ নেন। আলোচনায় শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে কার্যকর আইন প্রয়োগ, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।