
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণের আড়ালে উগ্রবাদী কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার সাত আসামির সবাই বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তাদের মধ্যে দুইজন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শনিবার (১৮ জুলাই) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামশেদ আলমের আদালতে আসামি মো. তাহসীন ইসলাম ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) একই মামলার প্রধান আসামি শাহ আমানত সাবির ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলামের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে তাকেও কারাগারে পাঠানো হয়।
এদিকে, রিমান্ড শেষে মো. হোসাইন তানিম, মো. জুনায়েদ, আতাউল্লাহ শাহ, মো. আবিদুর রহমান এবং মো. বায়োজিতকে আদালতে হাজির করা হলে তাদেরও কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মহিন উদ্দীন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেফতার সাত আসামির মধ্যে দুইজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এবং বর্তমানে সবাই কারাগারে রয়েছেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ৫ জুলাই যাত্রাবাড়ীর মিনি কক্সবাজার এলাকার একটি বালুর মাঠে অভিযান চালিয়ে ‘ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম (এফসিএস)’ নামে পরিচালিত একটি মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণ কার্যক্রম থেকে ছয়জনকে আটক করা হয়। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, প্রশিক্ষণের আড়ালে সেখানে উগ্রবাদী কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল।
আটকদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে যশোর থেকে মো. তাহসীন ইসলাম ওরফে সুলতানকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর ১১ জুলাই তদন্ত কর্মকর্তা সাত আসামির রিমান্ড আবেদন করলে ১২ জুলাই আদালত প্রথম দফায় তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে শাহ আমানত সাবির ও মো. হোসাইন তানিমকে দ্বিতীয় দফায় আরও তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।
এর আগে যাত্রাবাড়ী থানার এসআই এ বি সিদ্দিকী বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ (সংশোধিত ২০১৩)-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ১৬ জনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন।
যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাজু বলেন, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় সংশ্লিষ্টদের গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। মামলাটির তদন্ত করছে পুলিশের অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিট (এটিইউ)।