
যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে তৃতীয় কোনো দেশে অভিবাসীদের নির্বাসন কার্যক্রম আপাতত চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে এ ধরনের নির্বাসন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নিম্ন আদালতের আদেশ স্থগিত করা হয়েছে। তবে নীতিটির বৈধতা নিয়ে চূড়ান্ত শুনানি হবে আগামী ডিসেম্বর।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ট্রাম্প প্রশাসনের জরুরি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট এ আদেশ দেয়। এর ফলে এমন দেশেও অভিবাসীদের পাঠানো সম্ভব হবে, যাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কোনো সম্পর্ক নাও থাকতে পারে।
এর আগে বোস্টনের ফেডারেল বিচারক ব্রায়ান মারফি রায় দিয়েছিলেন, তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর আগে অভিবাসীদের সেখানে নির্যাতন বা নিপীড়নের আশঙ্কা রয়েছে কি না, তা জানানোর জন্য অর্থবহ সুযোগ দিতে হবে। তাঁর রায়ে প্রশাসনের তৃতীয় দেশে নির্বাসন নীতিকে আইনবহির্ভূত ঘোষণা করা হয়েছিল।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর ফার্স্ট সার্কিট কোর্ট অব আপিলও মারফির রায়ের অধিকাংশ অংশ বহাল রাখে। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, তৃতীয় দেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে অভিবাসীদের নির্যাতন বা নিপীড়নের ঝুঁকি সম্পর্কে আপত্তি জানানোর পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া হয়নি।
সুপ্রিম কোর্টের মঙ্গলবারের আদেশটি স্বাক্ষরবিহীন এবং এতে আদেশের কারণ বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি। তিন উদারপন্থী বিচারপতি—সোনিয়া সোটোমেয়র, এলেনা কাগান ও কেতানজি ব্রাউন জ্যাকসন—প্রশাসনের আবেদন মঞ্জুরের বিরোধিতা করেছেন।
আদালত আগামী ডিসেম্বর এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ যুক্তিতর্ক শুনবে। সেখানে তৃতীয় দেশে নির্বাসন নীতির বৈধতা, নিম্ন আদালতের এ বিষয়ে হস্তক্ষেপের এখতিয়ার এবং অভিবাসীদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে কি না—এসব বিষয় বিবেচনায় আসবে।
ট্রাম্প প্রশাসন ২০২৫ সাল থেকে তৃতীয় দেশে নির্বাসনকে অভিবাসন নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। প্রশাসনের যুক্তি, কোনো অভিবাসীর নিজ দেশ তাকে ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানালে তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তাকে সরানো সম্ভব। আদালতের নথি অনুযায়ী, এ নীতির আওতায় এরই মধ্যে ২৫ হাজারের বেশি অভিবাসীকে বিভিন্ন দেশে পাঠানো হয়েছে।
তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ নীতির সমালোচনা করে আসছে। তাদের অভিযোগ, তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্যাতন বা নিপীড়নের আশঙ্কা জানানোর পর্যাপ্ত সুযোগ না দিলে তাদের আইনি সুরক্ষা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরাও এ ধরনের নির্বাসন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
এর আগে ২০২৫ সালেও সুপ্রিম কোর্ট স্বাক্ষরবিহীন আদেশের মাধ্যমে তৃতীয় দেশে কয়েকজন অভিবাসীকে নির্বাসনের পথ সাময়িকভাবে উন্মুক্ত করেছিল। নতুন আদেশের ফলে ডিসেম্বরের শুনানি পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসন এ ধরনের নির্বাসন কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবে।