
একজন ইতিবাচক মানুষ যেমন আপনার সাফল্যের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতে পারেন, তেমনি আশপাশের নেতিবাচক মানুষও ধীরে ধীরে আপনার কর্মশক্তি কমিয়ে দিতে পারে। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে কিছু ধরনের মানুষের সঙ্গে অতিরিক্ত মেলামেশা মানসিক চাপ ও কর্মস্পৃহা কমার কারণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে এমন পাঁচ ধরনের ব্যক্তির বিষয়ে তুলে ধরা হলো, যাদের আচরণ ধীরে ধীরে আপনার মানসিক শক্তি ও মনোযোগে প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রথমত, চির discontent (সব বিষয়ে অভিযোগকারী): কিছু মানুষ সব বিষয়েই অভিযোগ করেন, কখনও অন্যদের বিরুদ্ধে, কখনও আবার জীবনের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এ ধরনের কথাবার্তা আশপাশের মানুষের মধ্যে অপরাধবোধ তৈরি করতে পারে এবং কাজের প্রতি মনোযোগ নষ্ট করতে পারে। ফলে ধীরে ধীরে কর্মস্পৃহাও কমে যেতে পারে।
দ্বিতীয়ত, স্বার্থপর কথক: কিছু ব্যক্তি সব আলোচনায় নিজেকে কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে চান এবং প্রায়ই অন্যের কথাকে নিজের অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিলিয়ে ফেলেন। এতে স্বাভাবিক কথোপকথনেও অস্বস্তি তৈরি হয় এবং মানসিক স্বস্তি ব্যাহত হতে পারে।
তৃতীয়ত, ব্যক্তিগত সীমা লঙ্ঘনকারী: অনেক মানুষের অভ্যাস থাকে বিয়ে, সম্পর্ক, ওজন বা ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন করা বা মন্তব্য করা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের আচরণ বারবার মানসিক ক্লান্তি তৈরি করে এবং সম্পর্কেও চাপ সৃষ্টি করে।
চতুর্থত, কর্তৃত্ব স্থাপনকারী: কিছু ব্যক্তি অন্যের ব্যক্তিগত জীবনে অযথা কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যক্তিগত জীবনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার একমাত্র ব্যক্তির নিজেরই থাকা উচিত। অন্যের চাপ মানসিক দ্বন্দ্ব ও অস্থিরতা বাড়াতে পারে।
পঞ্চমত, চির সমালোচক: কিছু মানুষ নিয়মিত অন্যদের সমালোচনা করেন। এমন মানুষের সঙ্গে বেশি সময় কাটালে মনে হতে পারে, আপনার অনুপস্থিতিতেও তারা আপনার বিষয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করতে পারেন, যা মানসিক চাপ আরও বাড়িয়ে দেয়।
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, এ ধরনের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ সীমিত রাখা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং ইতিবাচক সম্পর্ককে গুরুত্ব দেওয়া কর্মশক্তি ও মানসিক প্রশান্তি ধরে রাখতে সহায়ক।