
বরিশালের সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের খেলার মাঠ সংস্কারের দাবিতে কচুগাছ লাগিয়ে প্রতীকী প্রতিবাদ করেছেন একদল শিক্ষার্থী। দীর্ঘদিন ধরে মাঠ সংস্কারের দাবি জানিয়ে এলেও কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস ছাড়া দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।
শনিবার (৭ আগস্ট) বিকেলে কলেজ ক্যাম্পাসের মাঠে ব্যতিক্রমী এ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সংস্কারের অভাবে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী বিএম কলেজের বাণিজ্য ভবনসংলগ্ন মাঠে দীর্ঘদিন ধরে খেলাধুলার পরিবেশ নেই। ২০২৩ সালের পর সেখানে আর কোনো খেলাধুলার আয়োজন হয়নি। ২০২৬ সালে এসেও মাঠ সংস্কার কিংবা খেলাধুলার আয়োজনের বিষয়ে কলেজ প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই।
শিক্ষার্থীরা জানান, ২০২৫ সালে পাঁচ দফা দাবি নিয়ে আন্দোলনের পর কলেজ প্রশাসন মাঠ সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু এক বছর পেরিয়ে গেলেও সেই আশ্বাস বাস্তবায়ন হয়নি।
তাদের দাবি, চলতি বছরের মে মাসে ফির বিনিময়ে সঠিক সেবা নিশ্চিত করা, আন্তঃবিভাগীয় টুর্নামেন্ট আয়োজনসহ ১০ দফা দাবি জানানো হলে অধ্যক্ষ একটি কমিটি গঠন করেন। কমিটির একাধিক বৈঠক হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ফল পাওয়া যায়নি। এমনকি আন্তঃবিভাগীয় ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য কমিটি করা হলেও সেটিও বাস্তবায়ন হয়নি।
শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন, কলেজের প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ইনডোর ও আউটডোর ফি বাবদ বছরে ৯০ টাকা করে প্রায় ২৭ লাখ টাকা আদায় করা হচ্ছে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে মাঠে কোনো খেলাধুলার আয়োজন নেই। এ অর্থের ব্যবহারেরও স্বচ্ছ হিসাব দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।
অর্থনীতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী শাহাবুদ্দিন মিয়া বলেন, ‘কচুগাছ লাগানোর কর্মসূচিটি আমাদের প্রতীকী আন্দোলন। এর মাধ্যমে কলেজ প্রশাসনকে স্পষ্ট বার্তা দিতে চাই, সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভুয়া আশ্বাস দিয়ে থামিয়ে রাখা যাবে না। প্রশাসনের ব্যর্থতা ও নীরব ভূমিকার প্রতিবাদেই প্রতীকীভাবে কচুগাছ লাগানো হয়েছে।’
তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে বিএম কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শেখ মো. তাজুল ইসলাম বলেন, আন্তঃবিভাগীয় টুর্নামেন্ট আয়োজনের বিষয়ে অনেক কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগে মাঠের চারপাশে রাস্তা ছিল না। এখন রাস্তা হওয়ায় বৃষ্টির সময় মাঠে পানি জমে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, বিষয়টি সমাধানে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে কথা হয়েছে। ক্যাম্পাসের ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় মাঠে পানি জমছে। এ সমস্যা সমাধানে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। পানি কমে গেলে মাঠে খেলাধুলার আয়োজন করা হবে।