1. live@www.media71bd.com : Media 71 : Media 71
  2. info@www.media71bd.com : Media 71 :
শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:০০ অপরাহ্ন

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মির্জা ফখরুলের উত্তরসূরি কে, আলোচনায় ভাই-মেয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬

বঙ্গভবনের ২৩তম বাসিন্দা হচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর স্বাভাবিক নিয়মে শূন্য হয়েছে তাঁর সংসদীয় আসন ঠাকুরগাঁও-১। এখন এই আসনে তাঁর উত্তরসূরি কে হবেন—এ নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সামনে এসেছে মির্জা ফখরুলের ছোট ভাই ও ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন এবং তাঁর বড় মেয়ে শামারুহ মির্জার নাম।

স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শূন্য হওয়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে আপাতত এই দুজনের নামই আলোচনায় রয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কে নেবেন, তা নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি।

স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানান, আরও কয়েক দিন গেলে আসনটিতে প্রার্থিতার বিষয়টি পরিষ্কার হতে পারে। তবে গত বছরের ৫ আগস্টের পর মির্জা ফয়সাল আমিনকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। অন্যদিকে, শামারুহ মির্জা এখনো সরাসরি রাজনীতির মাঠে সক্রিয় হননি।

মির্জা ফখরুলের ঘনিষ্ঠ এক বিএনপি নেতা বলেন, তাঁর আসনে কে প্রার্থী হবেন, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই নেবেন। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানও বিষয়টি তাঁর ওপর ছেড়ে দিতে পারেন বলে ওই নেতা দাবি করেন।

ওই নেতা আরও বলেন, মির্জা ফখরুলের সম্মানের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দল এ আসনে গতানুগতিক কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাইবে না। তাঁর মেয়েকে রাজনীতিতে আনা হলে ঠাকুরগাঁওবাসী তাঁর মতো গ্রহণযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির একজন নেতাকে পেতে পারেন।

তবে তাঁর ভাই মির্জা ফয়সাল আমিন অন্য কাউকে প্রার্থী হিসেবে মেনে নেবেন কি না, সেটিও দেখার বিষয় বলে মনে করেন তিনি। দলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। তবে মির্জা পরিবারের বাইরে থেকে কেউ প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ি এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ। তিনি পাকিস্তান প্রাদেশিক আইনসভার সদস্য এবং বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ সদস্য ছিলেন। পরবর্তী সময়ে এরশাদ সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

বাবার রাজনৈতিক পথ অনুসরণ করলেও মির্জা ফখরুলের জাতীয় রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয় আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপে। পরে শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরি ছেড়ে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন।

১৯৯০ সালে বিএনপিতে যোগ দেন মির্জা ফখরুল। ১৯৯২ সালে তাঁকে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি করা হয়। পরে দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব এবং ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সালে বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে তিনি দলের মহাসচিব নির্বাচিত হন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্ত্রী রাহাত আরা বেগম। তাঁদের দুই মেয়ে—শামারুহ মির্জা ও মির্জা সাফারুহ।

বড় মেয়ে শামারুহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং সেখানে শিক্ষকতাও করেছেন। বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় পোস্টডক্টরাল ফেলো হিসেবে কাজ করছেন। ছোট মেয়ে মির্জা সাফারুহও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে একটি স্কুলে শিক্ষকতা করছেন।

অন্যদিকে মির্জা ফখরুলের ছোট ভাই মির্জা ফয়সাল আমিন ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি। তিনি ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও পৌর বিএনপির সভাপতি মো. শরিফুল ইসলাম শরিফ বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হওয়ায় শুধু ঠাকুরগাঁও নয়, সারা দেশের মানুষ আনন্দিত। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে রাজনীতি করেছেন এবং কারাবরণও করেছেন।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী বলেন, মির্জা ফখরুল ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের গর্ব। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও জাতীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা রাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা করেন।

মির্জা ফয়সাল আমিন বলেন, মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হওয়া তাঁদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের মুহূর্ত। তবে এই আনন্দ শুধু পরিবারের নয়, ঠাকুরগাঁওয়ের প্রতিটি মানুষের। তিনি মির্জা ফখরুলের জন্য সবার কাছে দোয়া ও শুভকামনা চান।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
© ২০২৬- প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট

You cannot copy content of this page