
বিএনপি সরকারকে একসঙ্গে দুটি বিরোধীদলের ‘অপতৎপরতা’ সামলে দেশ পরিচালনা করতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পোস্টে রাশেদ খান কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকার একমাত্র সন্তান ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে সন্তানদের চলাফেরা ও বন্ধুমহল সম্পর্কে বাবা-মায়ের খোঁজ রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।
তিনি লেখেন, সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে এবং তার বন্ধুদের সম্পর্কে খোঁজখবর রাখা বাবা-মায়ের দায়িত্ব। অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডও বিষয়টি নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
রাশেদ খানের ভাষ্য, পুলিশ যে তিনজনকে আটক করেছে, তারা এলাকায় কিশোর গ্যাং হিসেবে পরিচিত। সিসিটিভি ফুটেজে অপ্রতিমকে তুহিনের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে দেখা গেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার দাবি, অপ্রতিম সিনিয়র ক্লাসের বন্ধুদের সঙ্গে মিশতে পছন্দ করত এবং সেখান থেকেই তুহিনদের সঙ্গে তার যোগাযোগ তৈরি হয়।
তিনি আরও বলেন, ছোটবেলায় তারাও এলাকার বড়দের সঙ্গে চলাফেরা করতেন। তবে খারাপ ছেলেদের থেকে দূরে থাকার ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের শাসন ও নৈতিক নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
রাশেদ খান অভিযোগ করেন, বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আকর্ষণীয় ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে অল্পবয়সী তরুণদের নিজেদের দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করা হয়। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে তিনি দাবি করেন, আইফোনের লোভ দেখিয়ে ছবি তোলার কথা বলে অপ্রতিমকে বাড়ি থেকে বের করে আনা হয়েছিল।
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডকে কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার বার্তা হিসেবে উল্লেখ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পোস্টের শেষাংশে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়েও মন্তব্য করেন রাশেদ খান। তার ভাষ্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে একই সঙ্গে বিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচির নিরাপত্তা, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম এবং সামাজিক অপরাধ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। জনসংখ্যার অনুপাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসংখ্যা পর্যাপ্ত নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
রাশেদ খান আরও দাবি করেন, দীর্ঘদিনের অপরাধ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিরোধী দলগুলোর সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করা উচিত ছিল। তার অভিযোগ, এর পরিবর্তে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর চাপ তৈরি করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা বাসে আগুন ও ককটেল হামলা চালাচ্ছে—এমন অভিযোগ রয়েছে; অন্যদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলও ‘এক দফা’ কর্মসূচির হুমকি দিয়ে রাজপথে কর্মসূচি দিচ্ছে। এ পরিস্থিতিকে সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে সম্মিলিতভাবে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।