
ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর হামলা ঘিরে সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে এর বিপরীত প্রভাব দেখা গেছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে। সৌদি আরবের তেল সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা এবং মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথে পরিস্থিতির উন্নতির প্রত্যাশাকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০১ দশমিক ৭১ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ২ দশমিক ১ শতাংশ কমে ৯৮ দশমিক ১৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বাজারের তথ্য অনুযায়ী, চলতি সেপ্টেম্বরে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি দৈনিক ৪০ লাখ ব্যারেলের বেশি হয়েছে। এর আগে আগস্টে দেশটির তেল রপ্তানি কমে প্রায় ২৪ লাখ ব্যারেলে নেমে গিয়েছিল। হুথিদের হামলার কারণে ইয়ানবু বন্দর দিয়ে কিছু চালান বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সৌদি আরামকো বিকল্প হিসেবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন বাড়িয়েছে।
তবে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহপথের ঝুঁকি এখনো পুরোপুরি কাটেনি। গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সৌদি রাজধানী রিয়াদসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করে হুথিরা। তাদের দাবি অনুযায়ী, সৌদি আরামকোর একটি স্থাপনাও হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল। তবে হামলার ক্ষয়ক্ষতি ও সফলতা নিয়ে হুথি ও সৌদি কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে।
এদিকে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এখনো স্বাভাবিক হয়নি। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহান্তে প্রণালিটি দিয়ে মাত্র ১২টি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে। এর আগের সপ্তাহান্তে এ সংখ্যা ছিল ৩৫টি। সংঘাত শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২৫টি বড় বাণিজ্যিক জাহাজ এই পথ ব্যবহার করত।
তবে জাহাজ চলাচল কমে গেলেও মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। রয়টার্সের হিসাবে, গত ১০ দিনে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহের পরিমাণ গড়ে দৈনিক ১ কোটি ৭১ লাখ ব্যারেল ছিল। একই সময়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সৌদি আরবের তেল পরিবহনের পরিমাণও বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানিয়েছেন, গত দুই সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে অপরিশোধিত তেল, পণ্য ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) পরিবহন গত ছয় মাসের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি ছিল। তবে শিপিং তথ্য অনুযায়ী, দৃশ্যমান জাহাজ চলাচল এখনো স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ও হুথি হামলার ঝুঁকি অব্যাহত থাকলেও সৌদি আরবের তেল রপ্তানি বাড়ার সম্ভাবনা এবং আঞ্চলিক সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির প্রত্যাশা আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে নিম্নমুখী চাপ তৈরি করেছে।