
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে যুক্ত হচ্ছে আরও ১১টি উড়োজাহাজ। এ লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে একটি সম্পূরক চুক্তি সই করেছে বাংলাদেশ। চুক্তির আওতায় পাঁচটি বোয়িং ৭৮৭-১০ এবং ছয়টি বোয়িং ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ কেনা হবে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ চুক্তি সই হয়। বিমানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমী এ হোসেন এবং বোয়িংয়ের কমার্শিয়াল সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড ম্যাকমুলেন নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক ও উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের আন্ডার সেক্রেটারি উইলিয়াম কিমিট, বোয়িং গ্লোবালের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্রেন্ডান নেলসন, বোয়িং কমার্শিয়াল এয়ারপ্লেনসের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টেফানি পোপ, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস পল কাপুর এবং বোয়িংয়ের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের বাণিজ্যিক বিক্রয় ও বিপণন বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রিগিসসহ দুই প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর বিমানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমী এ হোসেন বলেন, নতুন এই সম্পূরক চুক্তি বিমানের বহর আধুনিকায়ন ও নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বিমানের বহর পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতেই নতুন উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, বোয়িংয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সহযোগিতামূলক সম্পর্ক উড়োজাহাজ সরবরাহ এবং পরবর্তী সহায়তা ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বিমানের আস্থা বাড়িয়েছে। জাতীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেশের অভ্যন্তরে বসবাসকারী মানুষ, প্রবাসী বাংলাদেশি, ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক যোগাযোগের চাহিদা পূরণে বিমানের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস জানিয়েছে, নতুন ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি বহর আধুনিকায়ন কর্মসূচিকে আরও শক্তিশালী করবে। এর ফলে পরিচালন সক্ষমতা, নমনীয়তা ও দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যমান বোয়িং বহরের সঙ্গে সামঞ্জস্য ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সহজ হবে।
এর আগে বোয়িংয়ের কাছ থেকে আরও ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার জন্য চুক্তি করেছিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। নতুন চুক্তিসহ পর্যায়ক্রমে আধুনিক উড়োজাহাজ বহর গড়ে তুলে আন্তর্জাতিক রুটে বিমানের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
বিমান জানিয়েছে, দেশের আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ এবং দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় বিমান পরিবহন সক্ষমতা জোরদারের লক্ষ্যে আধুনিক, দক্ষ ও বাণিজ্যিকভাবে টেকসই বহর গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জাতীয় অগ্রাধিকার, প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান এবং বৈশ্বিক বিমান পরিবহন খাতের পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভবিষ্যতে বহর ও নেটওয়ার্কের প্রয়োজনীয়তাও নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে।