
প্রায় তিন বছর পর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাওয়া চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে বুধবার ওয়াশিংটনে ব্যক্তিগতভাবে স্বাগত জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিন দিনের এ সফরে দুই নেতার আলোচনায় বাণিজ্য, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইরান ও তাইওয়ানসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসার কথা রয়েছে। এর মধ্যেই দুই দেশ চলমান বাণিজ্যবিরতির মেয়াদ আরও দুই মাস বাড়িয়ে আগামী ১০ জানুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত রাখার বিষয়ে একমত হয়েছে।
মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে শি জিনপিংকে স্বাগত জানান ট্রাম্প। সেখানে দুই নেতা ও তাদের স্ত্রীরা করমর্দন করেন এবং কিছুক্ষণ কথা বলেন। এ সময় সামরিক ব্যান্ড সংগীত পরিবেশন করে, তোপধ্বনি দেওয়া হয় এবং একটি বি-১ বোমারু বিমানও আকাশে উড়ে যায়। ট্রাম্পের এই ব্যক্তিগত অভ্যর্থনা বিদেশি কোনো নেতার জন্য বিরল প্রটোকল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শি জিনপিং এক লিখিত বিবৃতিতে বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের উচিত অংশীদার হিসেবে কাজ করা, প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নয়। তবে ওই বিবৃতিতে নতুন বাণিজ্য সমঝোতা নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি।
এদিকে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, দুই দেশ তাদের বিদ্যমান বাণিজ্যবিরতির মেয়াদ ১০ নভেম্বর থেকে বাড়িয়ে ১০ জানুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত করেছে। তাঁর ভাষ্য, এই সময়ের মধ্যে দুই দেশ বৃহত্তর অর্থনৈতিক সমঝোতার বিষয়ে আরও আলোচনা করতে পারবে।
২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে শুল্ক পাল্টাপাল্টি আরোপের মাধ্যমে বাণিজ্য উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছিল। একপর্যায়ে দুই দেশের পণ্যের ওপর শুল্ক তিন অঙ্কের পর্যায়েও পৌঁছায়। পরবর্তী সমঝোতায় শুল্ক ও পাল্টা বাণিজ্যিক পদক্ষেপের কিছু অংশ স্থগিত করা হয়। নতুন করে বাণিজ্যবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ফলে দুই দেশের মধ্যে বৃহত্তর অর্থনৈতিক চুক্তির জন্য আরও সময় তৈরি হলো।
তবে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মতপার্থক্য এখনো রয়েছে। বিরল খনিজের রপ্তানি, কম্পিউটার চিপ ও উন্নত প্রযুক্তিতে নিয়ন্ত্রণ, ইরানের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক এবং তাইওয়ান ইস্যুতে দুই দেশের অবস্থান ভিন্ন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়েও দুই দেশের মধ্যে তীব্র প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা চলছে।
বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের বৈঠকে নির্দিষ্ট কিছু পণ্যে শুল্ক কমানো, মাদক পাচার প্রতিরোধে সহযোগিতা এবং দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। চীনে আটক কিছু মার্কিন নাগরিকের বিষয়ও ট্রাম্প আলোচনায় তুলতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আরও আলোচনার উদ্যোগ আসতে পারে। সাম্প্রতিক আলোচনায় এআই-সংক্রান্ত ঝুঁকি ও জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট ঘটনার ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাবও উঠে এসেছে।
শি জিনপিংয়ের সফর উপলক্ষে বৃহস্পতিবার প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ নির্বাহীদের নিয়ে একটি রাষ্ট্রীয় নৈশভোজের আয়োজন করা হয়েছে। এতে অ্যামাজনের জেফ বেজোস, অ্যাপলের টিম কুক, এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াং, ওপেনএআইয়ের স্যাম অল্টম্যানসহ প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ব্যক্তিদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। সফরসূচিতে হোয়াইট হাউসে সামরিক অনুষ্ঠান এবং ন্যাশনাল আর্কাইভস পরিদর্শনের কর্মসূচিও রয়েছে।