টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বহুল আলোচিত ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে তৈরি উত্তেজনা কমতে শুরু করেছে বলে ইঙ্গিত মিলছে। বয়কটের কঠোর অবস্থান থেকে সরে এসে শেষ পর্যন্ত ভারতের বিপক্ষে খেলতে রাজি হওয়ার দিকেই এগোচ্ছে পাকিস্তান—এমনটাই দাবি করছে একাধিক সূত্র।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি), পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর এই ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়েছে। যদিও এখনো পিসিবি, পাকিস্তান সরকার বা আইসিসির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি।
এদিন লাহোরে পিসিবির সঙ্গে বৈঠক করেন আইসিসির প্রতিনিধি ইমরান খাজা ও মুবাশির উসমানি। পুরো বিষয়টি তত্ত্বাবধান করছেন আইসিসির সিইও সংযোগ গুপ্ত। ভারতের সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, এই বৈঠকেই পাকিস্তানের অবস্থান নরম হওয়ার আভাস পাওয়া গেছে।
এর আগেই ইঙ্গিত মিলেছিল, কারণ ভারত ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দেওয়ার পরও আলোচনার জন্য আইসিসিকে বৈঠকের অনুরোধ করে পিসিবিই। যদিও প্রকাশ্যে সিদ্ধান্তের দায় পাকিস্তান সরকারের ওপর চাপানো হয়, নেপথ্যে আলোচনায় বসতে রাজি হওয়াটা ছিল তাৎপর্যপূর্ণ।
রোববার আইসিসি এ ইস্যুতে জরুরি বৈঠকও ডাকে, যেখানে পিসিবির পাশাপাশি পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বৈঠকের আগে লাহোরে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম। তিনি লাহোর থেকেই আইসিসির ভার্চুয়াল বৈঠকে অংশ নেন বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিয়ো নিউজ।
উল্লেখ্য, ভারত ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা পাকিস্তান সরকার দিলেও পিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে তা আইসিসিকে জানায়নি। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্ধারিত ম্যাচ না খেললে পিসিবিকে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বড় অঙ্কের জরিমানা ও এমনকি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নির্বাসনের ঝুঁকিও নিতে হতে পারে—এমন সতর্কবার্তা আগেই দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনাও পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে। নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতে খেলতে আপত্তি জানানোয় এবং সূচি পরিবর্তনে সমাধান না হওয়ায় আইসিসি বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে। এর পরপরই পাকিস্তান সরকার ভারতের বিপক্ষে না খেলার ঘোষণা দেয়।
তবে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হলে সম্প্রচারকারী সংস্থা, আয়োজক বোর্ডসহ একাধিক দেশের বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়। সেই চাপ এখন সরাসরি পিসিবির ওপর পড়েছে।
সব মিলিয়ে পরিস্থিতি যেদিকে গড়াচ্ছে, তাতে বয়কটের অবস্থান ধরে রাখা পাকিস্তানের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে। আইসিসির সাম্প্রতিক বৈঠকের পর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শেষ পর্যন্ত ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনাই এখন সবচেয়ে বেশি।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়