
সমসাময়িক বিশ্ব রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক বৈষম্য, নৈতিক অবক্ষয় ও মানবিক সংকটে আক্রান্ত। আধুনিক কল্যাণ রাষ্ট্র কিছু ভৌত সুবিধা দিলেও ন্যায়বিচার, নৈতিকতা ও মানবিক দায়িত্ববোধের স্থায়ী ভিত্তি গড়ে তুলতে ব্যর্থ। এই প্রেক্ষাপটে ইসলামি কল্যাণ রাষ্ট্র একটি নৈতিক, ভারসাম্যপূর্ণ ও টেকসই রাষ্ট্রচিন্তা হিসেবে সামনে আসে।
ইসলামি কল্যাণ রাষ্ট্রে মানুষের কল্যাণ কোনো অনুগ্রহ নয়; এটি আল্লাহপ্রদত্ত দায়িত্ব ও আমানত। শাসক ও শাসিত উভয়েই আল্লাহর কাছে জবাবদিহির ধারণায় আবদ্ধ থাকায় ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বেচ্ছাচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্ত নৈতিক প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়। ন্যায়, ইনসাফ ও দায়িত্বশীলতা রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক মানদণ্ডে পরিণত হয়।
ইসলামি কল্যাণ রাষ্ট্র মাকাসিদুশ শরিয়ার আলোকে ধর্ম, জীবন, বুদ্ধি, বংশ, সম্পদ ও মর্যাদা সংরক্ষণকে রাষ্ট্রীয় কর্তব্য হিসেবে গ্রহণ করে। দারিদ্র্য দূরীকরণ, সামাজিক নিরাপত্তা, শ্রমিকের অধিকার, নারী ও সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা—এসব সমন্বিত রাষ্ট্রনীতির অংশ।
রাষ্ট্রক্ষমতা ইসলামি দৃষ্টিতে একটি ‘আমানত’। এটি ব্যক্তিগত অধিকার নয়, বরং দায়িত্ব। এর মূল বৈশিষ্ট্য—
ইসলামি কল্যাণ রাষ্ট্রের ভিত্তি চারটি নীতিতে প্রতিষ্ঠিত—
নবী (সা.) ও খোলাফায়ে রাশেদিনের শাসনামলে ইসলামি কল্যাণ রাষ্ট্রের সফল প্রয়োগ ইতিহাসে প্রমাণিত। আজকের নৈতিক শূন্যতা ও বৈষম্যের যুগে এটি মানব মর্যাদা, ন্যায় ও শান্তির পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সময়োপযোগী।
তাওহিদ, আদল ও ইনসাফ, দায়িত্বশীল স্বাধীনতা এবং জবাবদিহিতা—এই চার স্তম্ভে দাঁড়িয়ে ইসলামি কল্যাণ রাষ্ট্র একটি নৈতিক, মানবকল্যাণমুখী ও টেকসই রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়
Leave a Reply