মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে বড় ধাক্কা পেয়েছেন। দেশটির সর্বোচ্চ আদালত যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত বাতিল করে দিয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ট্রাম্পের নিয়োগ দেওয়া দুই বিচারপতিও এই সিদ্ধান্তের পক্ষে মত দিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, আদালতের এই রায় ট্রাম্পের এজেন্ডার জন্য তাৎক্ষণিক ধাক্কা হলেও দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিকভাবে তাঁকে কিছুটা স্বস্তিও দিতে পারে। কারণ, শুল্কনীতি ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল।
শুল্ক আরোপে ট্রাম্পের নতুন ইঙ্গিত
রায় ঘোষণার পর ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিনি অন্য আইনি ক্ষমতার আওতায় ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করতে পারেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আদালতের এই রায়ের ফলে শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে তাঁর ক্ষমতা আগের তুলনায় অনেকটাই সীমিত হয়ে গেছে।
অর্থনীতিতে প্রভাবের অভিযোগ
এদিকে Bureau of Economic Analysis জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে গেছে এবং ২০১৬ সালের পর ২০২৫ সালটি দ্বিতীয় সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধির বছরে পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি কর্মসংস্থান পরিস্থিতিও সাম্প্রতিক দশকের মধ্যে অন্যতম দুর্বল ছিল। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মূল্যস্ফীতি।
বিশ্লেষকদের মতে, শুল্কনীতির কারণে সৃষ্ট অনিশ্চয়তা ও অতিরিক্ত ব্যয় মার্কিন অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
জনপ্রিয়তায় ধস
ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণা দেওয়ার পর তাঁর অর্থনৈতিক জনপ্রিয়তায়ও বড় পতন দেখা গেছে। জরিপ সংস্থা FiveThirtyEight–এর গড় সমীক্ষায় অর্থনীতিতে তাঁর জনপ্রিয়তা ‘প্লাস ৬’ থেকে নেমে ‘মাইনাস ১২’-তে পৌঁছেছে।
অন্যদিকে CNN–এর এক জরিপে দেখা গেছে, ৬২ শতাংশ আমেরিকান ট্রাম্পের শুল্কনীতিতে অসন্তুষ্ট। বিপরীতে সমর্থন জানিয়েছেন মাত্র ৩৭ শতাংশ। এমনকি রিপাবলিকান সমর্থকদের মধ্যেও প্রায় ২৫ শতাংশ এই নীতির বিরোধিতা করেছেন।
রিপাবলিকানদের মধ্যে অস্বস্তি
দীর্ঘদিন মুক্তবাজার ও মুক্ত বাণিজ্যের নীতিতে বিশ্বাসী রিপাবলিকান পার্টি–এর অনেক নেতাই ট্রাম্পের শুল্কনীতিতে অস্বস্তি বোধ করছিলেন। আদালতের এই রায়ের পর সেই বিতর্ক আরও জোরালো হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ বছর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প যদি বড় পরিসরে আবার শুল্ক আরোপের চেষ্টা চালিয়ে যান, তবে তা রাজনৈতিকভাবে তাঁর জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে।






