ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ফলাফল নিয়ে তৈরি হওয়া সব শঙ্কা ও উদ্বেগ নাকচ করেছেন নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে অনুষ্ঠিত সব নির্বাচনের তুলনায় এবারের নির্বাচনী পরিবেশ অনেক বেশি শান্তিপূর্ণ ও চমৎকার।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর নির্বাচন ভবনে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, তিন দিন নয়—১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশ করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে যে শঙ্কাগুলো ছিল, সেগুলো সবার সহযোগিতায় ইতোমধ্যে কাটিয়ে ওঠা গেছে। ইনশাআল্লাহ, ১২ ফেব্রুয়ারি একটি সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে ১১ থেকে ১২ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। অতীতের তুলনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে এবং সব বাহিনী সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে এবং কমিশনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে নির্বাচন পরিচালিত হবে।
তিনি জানান, প্রতিটি আসনে একাধিক মনিটরিং টিম কাজ করবে এবং প্রতি দুই ঘণ্টা অন্তর তথ্য কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলে পাঠানো হবে। বিদ্যুৎ সংযোগ থাকা কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকবে এবং নিরাপত্তাকর্মীরা বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করবেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব প্রতিরোধে কাজ করবে একটি বিশেষ ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং সেল।
নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, আধুনিক অটোমেশন ব্যবস্থা ও একাধিক ডিভাইস ব্যবহারের ফলে দ্রুত ফলাফল সংগ্রহ করা যাবে। দুর্গম এলাকার কারণে কিছু কেন্দ্রে সামান্য দেরি হতে পারে।
তিনি জানান, যৌথ বাহিনীর অভিযানে ইতোমধ্যে অধিকাংশ লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। ভোটারদের, বিশেষ করে নারী ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে এবং কোনো ধরনের হয়রানি বরদাস্ত করা হবে না।
সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার নিশ্চয়তা দিয়ে তিনি বলেন, কোনো সাংবাদিককে হয়রানি করা হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শেষে আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন কমিশনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে সবাই মিলে একটি সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিন।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়