
মানুষের শরীর ও সুস্থতা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে প্রদত্ত এক মহামূল্যবান নেয়ামত। ইসলামে প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গের হক ও অধিকার রয়েছে, যা আদায় করা বান্দার জন্য জরুরি। শরীরকে সুস্থ রাখা, অতিরিক্ত কষ্ট না দেওয়া, প্রয়োজনে বিশ্রাম নেওয়া, পরিমিত আহার করা এবং অসুস্থ হলে চিকিৎসা গ্রহণ—সবই শরীরের হকের অন্তর্ভুক্ত। হজরত ওয়াহাব ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয় তোমার ওপর তোমার শরীরের হক আছে।’ (তিরমিজি : ২৩৫০)
ইবাদত-বন্দেগি সঠিকভাবে পালনের জন্য কায়িক ও শারীরিক শক্তি প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘দুর্বল মোমিনের তুলনায় সবল মোমিন অধিক কল্যাণকর এবং আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়। তবে উভয়ের মধ্যেই কল্যাণ রয়েছে। আর যা তোমাকে উপকৃত করবে, সেটিই কামনা করো।’ (মুসলিম : ২৬৬৪)
শরীরের সুস্থতা ও সক্ষমতাকে বিশেষভাবে মূল্যায়নের নির্দেশ দিয়েছেন নবী করিম (সা.)। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘পাঁচটি জিনিসকে পাঁচটি জিনিস আসার আগে গনিমতের অমূল্য সম্পদ হিসেবে মূল্যায়ন করো—জীবনকে মৃত্যু আসার আগে, সুস্থতাকে অসুস্থ হওয়ার আগে, অবসর সময়কে ব্যস্ততা আসার আগে, যৌবনকে বার্ধক্য আসার আগে এবং সচ্ছলতাকে দারিদ্র্য আসার আগে।’ (মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা : ৮/১২৭)
নবীজি (সা.) তাঁর দৈনন্দিন জীবনে শরীরচর্চার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি নিয়মিত হাঁটতেন, মাঝে মাঝে দৌড় প্রতিযোগিতা করতেন এবং সাহাবিদের সঙ্গে কুস্তিতে অংশ নিতেন। এমনকি কখনো কখনো পূর্ণিমার রাতে প্রিয়তম স্ত্রীদের সঙ্গেও দৌড় প্রতিযোগিতা করেছেন। তাঁর হাঁটার গতি ছিল স্বাভাবিক ও দ্রুত। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, ‘আমি নবীজির চেয়ে দ্রুতগতিতে কাউকে হাঁটতে দেখিনি।’ (তিরমিজি : ৩৬৪৮)
খাদ্যাভ্যাস মানুষের শরীরের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। অতিরিক্ত আহার যেমন শরীরের জন্য ক্ষতিকর, তেমনি প্রয়োজনের তুলনায় কম খাওয়াও ক্ষতিকর। নবীজি (সা.) পরিমিত আহারের শিক্ষা দিয়েছেন এবং সাহাবিদের পেটের এক ভাগ খাদ্য, এক ভাগ পানীয় ও এক ভাগ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য ফাঁকা রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন। (তিরমিজি : ১৩৮১)
পরিচ্ছন্নতা সুস্থ জীবনের অন্যতম শর্ত। অপরিচ্ছন্নতা ও অগোছালো পরিবেশ শরীরে রোগব্যাধি সৃষ্টি করে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব মন ও মস্তিষ্কেও পড়ে। এ বিষয়ে নবীজি (সা.) বিশেষভাবে সতর্ক করেছেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘পাঁচটি বিষয় মানুষের স্বভাবজাত—খতনা করা, নাভির নিচের অবাঞ্ছিত লোম পরিষ্কার করা, গোঁফ কাটা, নখ কাটা এবং বগলের লোম উপড়ে ফেলা।’ (বোখারি : ৫৮৮৯)
সবশেষে বলা যায়, ইসলামের দৃষ্টিতে শরীরের সুস্থতা ও সক্ষমতা কেবল দুনিয়াবি প্রয়োজন নয়; বরং আল্লাহর ইবাদত সুন্দরভাবে ও নিয়মিত পালনের জন্য এক অপরিহার্য শর্ত। তাই শরীরের প্রতি যত্নবান হওয়া ও এ বিষয়ে অবহেলা না করাই একজন মুমিনের দায়িত্ব।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়
Leave a Reply